গত তিন বছরে দেশের দারিদ্র্য ক্রমেই বেড়ে Ali পড়ে এবং বর্তমানে দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ। এর আগে ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। আশঙ্কাজনকভাবে, দেশের প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্য সীমার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে, এবং যেকোনো সময় তারা দারিদ্র্যর শুভ্রান্তে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই চিত্রটি উঠে এসেছে গতকাল সোমবার প্রকাশিত একটি গবেষণায়, যা পরিচালনা করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার–পিপিআরসি। এই গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘ইকনোমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেবেল ইন মিড ২০২৫’। এর ফলাফল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয়, যেখানে সংস্থার নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বিভিন্ন গবেষণাগত দিক তুলে ধরেন।
গবেষণাটি করা হয় দেশের ৮ হাজার ৬৭০টি পরিবারের ৩৩ হাজার ২০৭ জন নির্দিষ্ট ব্যক্তির মতামতের ভিত্তিতে, এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়েছে যা চলতি বছর মে মাসের শেষে সম্পন্ন হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রধান তিনটি সংকট—কোভিড-১৯ মহামারি, মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা—দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সংকুচিত করে চলেছে। অপর দিকে, অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় দেখা গেছে, গত আগস্টের আগে নাগরিকরা যেখানে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ সেবা নিতে ঘুষ দিত, সেখানে এখন এই হার কমে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে, সরকারি অফিস, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে এখনও বেশি ঘুষ দিতে হয়। অপ্রত্যাশিতভাবে, পরিবারের আয়ের প্রায় ৫৫ শতাংশ খরচ হয়ে যায় খাদ্যপণ্য কেনায়।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা ব্যয় বেশি করেন, তারা ধার-দেনা করে সংসার চালান। অন্যদিকে, উচ্চবিত্তের আয়ের তুলনায় ব্যয় কম। পাশাপাশি, বৈষম্য ও হয়রানির পরিমাণ বাড়ছে। গেল সরকারের সময়ে যেখানে ঘুষের হার ছিল ২১.৫১ শতাংশ, বর্তমানে তা বেড়ে ৩০.৭৯ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, একটি জবাবদিহিতামূলক সরকার গড়তে হলে মানুষের জীবনে সত্যিকার পরিবর্তন আনা দরকার। সরকারের নীতিমালা এমনভাবে ভাবতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক গতি বাড়াতে শুধুই জিডিপির দিকে মনোযোগ দিলে হবে না। সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা এবং নাগরিক কল্যাণের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও বৃহৎ অর্থনীতির পরিবর্তে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।