অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা বিগ ব্যাশে এবারের সিরিজে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে মাঠে খেলছেন পাকিস্তানি তারকা ব্যাটার বাবর আজম। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই অস্ট্রেলীয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল, কিন্তু মাঠে তার পারফরম্যান্স প্রত্যাশার চেয়েও কিছুতেই সামান্যই উন্নতি দেখাতে পারেননি তিনি। দর্শকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ‘বাবরিস্তান’ নামে একটি ফ্যান জোনের মাধ্যমে সিডনি সিক্সার্স তাকে বেশ সম্মানের সঙ্গে স্বাগতম জানিয়েছিল, তবে মাঠে ব্যাটিংয়ে বাবর শুধুমাত্র হতাশাই উপহার দিতে পারেন। এখন পর্যন্ত চারটি খেলায় তিনটেই তিনি ব্যর্থ হয়েছেন, যার ফলে দলের ফলাফলও খুব একটা ভালো যায়নি। বাবর আজমের টি-টোয়েন্টি দল চারটি ম্যাচে তিনটিতেই হারে পরাজিত হয়েছে।
সবশেষ শুক্রবার, মেলবোর্ন স্টারসের বিপক্ষে ম্যাচে বাবর কেবল ৭ বল খেলে মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন। এই ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে, সিডনি ২০ ওভারে ১৪৪ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, যা লক্ষ্য করে মেলবোর্ন স্টারস ১৫ বল হাতে রেখে সাত উইকেটের বড় জয় করে। এ পর্যন্ত চার ম্যাচে, বাবর কেবল একটিরই রান করেছেন, সেটি ৪২ বলে ৫৮ রান। ওই একটি ইনিংসের দিনই দলটি জিতলেও, তার স্ট্রাইক রেট নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে, কারণ তার ব্যাটে টি-টোয়েন্টির চাহিদা অনুযায়ী দ্রুতগতির আক্রমণ দেখা যাচ্ছে না। বাকি তিন ম্যাচে তার সংগ্রহ যথাক্রমে ৯, ২ ও ২ রান। ৩১ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ব্যাটারের এই অপ্রকাশ্য পারফরম্যান্স উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সামর্থ্য পরিপূর্ণতার বিষয়ে স্বাভাবিকভাবে।
বাবর আজমের বর্তমান ফর্মহীনতা শুধু বিগ ব্যাশে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়েও দেখা যাচ্ছে সংশয়। প্রায় এক বছর পরে পাকিস্তানের জাতীয় দলে ফিরে এসেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে আউট হন তিনি। এরপর জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে টানটান পারফরম্যান্সের জন্য তিনি দুর্বল ধরা পড়েছেন; ৫ ম্যাচে মোট রান ১২৭, স্ট্রাইক রেট ১১২.৩৮। তবে, দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার পরে ১৪ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে সেঞ্চুরি করে, এভাবে তিনি দীর্ঘ ৮০৭ দিন এবং ৮৩ ইনিংসের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির খরা কাটিয়েছেন। এই মোটামুটি সাফল্য কেবল বিরাট কোহলির সমান সংখ্যক ইনিংসের খরার সাথে তুলনা করা যায়।
তবে, আধুনিক ক্রিকেটের দ্রুতগতির সংস্করণে বাবর এর মাঝের ধীর গতির ব্যাটিং ও ধারাবাহিকতার অভাব তার ক্যারিয়ারে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেকে আবার প্রমাণের সুযোগগুলো কেমনভাবে কাজে লাগাতে পারেন, সেটি এখন দেখার ব্যাপার।






