বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ আজ নিশ্চিত করেছেন যে, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য নির্ধারিত তিনটি আসনে তার বিকল্প হিসেবে যারা মনোনয়ন ফর্ম জমা দিয়েছেন, এখন তাদেরকেই দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এই তথ্য জানান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন ছিল ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩ আসনে। তবে তার গুরুতর অসুস্থতার কারণে দল আগে থেকেই এই তিন আসনে বিকল্প প্রার্থীদের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিল। এখন তিনি আর জীবিত না থাকায় আইনি প্রক্রিয়ায় ওই বিকল্প প্রার্থীরাই নির্বাচনী যুদ্ধ পরিচালনা করবেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ফেনী-১ আসনে বিকল্প প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু, বগুড়া-৭ আসনে মোরশেদ আলম এবং দিনাজপুর-৩ আসনে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচনে লড়বেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু sonrası ওই আসনগুলোতে নির্বাচন স্থগিতের কি কোনও সুযোগ আছে? এর উত্তরে তিনি বলেন, আইনে এ ধরনের কোনও সুযোগ নেই। যেহেতু মনোনয়নপত্রের বৈধতা যাচাই এবং প্রতীক বরাদ্দের আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তাই নির্বাচনের পিছিয়ে যাওয়ার কোনও আইনি ভিত্তি নেই। আরো ব্যাখ্যামূলকভাবে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র স্বাভাবিকভাবেই বাতিল হয়ে যাবে, এবং যদি বিকল্প প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ হয়, তারা দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানসিক অবস্থা ও নেতৃত্বের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রিয়জন হারানোর শোকের মধ্যেও তারেক রহমান একজন অত্যন্ত দৃঢ় মনোবল সম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এ সময় তিনি বলেন, জাতির এই সংকটময় মুহূর্তে তারেক রহমানকে শক্ত থাকতেই হবে, এর কোনও বিকল্প নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, শোকের মধ্যে থেকেও তিনি নিজেকে শক্ত রেখে দেশের স্বার্থে সঠিক নেতৃত্ব দেবেন। উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারা দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরাও শোকাবহ পরিবেশে নির্বাচন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে এখন দলের সব মনোযোগ নির্বাচনী কার্যক্রম ও চেয়ারপারসনের অসমাপ্ত রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে কেন্দ্রীভূত হবে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।






