মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শীতের এই অপ্রত্যাশিত দুর্যোগ কার্যত নেমে এসেছে নীরব প্রকারে। গত কয়েকদিন ধরে দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিলছে না, যার কারণে পুরো এলাকা ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। বাতাসের এত শক্তি ও শীতের কারণে সাধারণ জীবনযাত্রা প্রায় স্তব্ধ হয়ে গেছে। এই তীব্র শীতের ভোগান্তিতে পড়েছেন মূলত খেটে খাওয়া মানুষ, চা শ্রমিক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুররা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল শহর ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে দেখা যায়, বহু মানুষ গরম কাপড় পরে বেরাচ্ছেন। রাস্তাঘাটে মানুষের সংখ্যা কম, কারণ ঠাণ্ডার কারণে সবাই সতর্ক। শহরের বাইরে যে কোনও স্থানেই শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। চারদিকে ছড়িয়ে থাকা কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে জনজীবন প্রায় থমকে গেছে।
রিকশাচালক জমির আলী বলেন, ‘কয়দিন ধরেই দিনের বেলায় সূর্য দেখা যায় না। সকালে বের হতেই ঠাণ্ডার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়। গরম কাপড় পরলেও শরীরের ভিতরে ঠাণ্ডা ঢুকে যায়। কাজ না করলে সংসার চালানো যায় না, তাই কষ্ট হলেও রিকশা চালাতে হয়।’
অন্যদিকে, ভাড়াউড়া চা বাগানের চা শ্রমিক দুলাল হাজরা জানান, ‘সন্ধ্যার পর চা বাগানে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়ে। অনেকের ঘরে পর্যাপ্ত গরম কাপড় নেই। এখনও পর্যন্ত অনেক বাগানে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি।’
ভ্যানচালক নুরু উদ্দিনও একইভাবে কষ্টের কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘আগে সকালে ঠাণ্ডা লাগত, এখন দিনে ও ঠাণ্ডা কমে না। ভ্যান চালাতে গেলে হাত-পা শক্ত হয়ে যায়। তবে আয় কমে গেছে, তবুও সংসারের প্রয়োজনে ঠাণ্ডায় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়।’
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে বৃহস্পতিবার এটি ছিল ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও তাপমাত্রা একটু বাড়লেও সূর্যের অনুপস্থিতিতে শীতের সেই কড়া অনুভূতি কমেনি।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, ‘বর্তমানে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে অনেকটা পার্থক্য দেখা যাচ্ছে না। দিনের বেলায় কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো পাওয়া যায় না, ফলে পুরো দিনই শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন চলতে পারে।’
শীতের কারণে স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বেড়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, ‘অ্যাজমা ও ঠাণ্ডাজনিত রোগের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশুরা ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভুগছেন। এই সময় সবাইকে গরম কাপড় পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, আর অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।’






