ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের মধ্যে করমর্দনের ঘটনা দেশটির সম্পর্কের স্বাভাবিক চিত্রের দিকে নতুন দিক নির্দেশ করছে। সাধারণত এই দুই দেশের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় বা হাত মেলানো প্রায় অস্বাভাবিকEvent হলেও দেশের সর্বোচ্চ স্তরে এমন দৃশ্য বিশ্বনেতাদের মাঝে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
বিশেষ করে, গত বছর শেষের দিন ঢাকায় অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার জানাজায় এই দুই নেতা প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অংশ নেন। এরপর সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের করমর্দনের ছবি প্রকাশ পায়, যা আতিথ্য ও শুভেচ্ছার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এটি ছিল শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা, কিন্তু এর পেছনের বার্তা অনেকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। একদিকে যেমন এটি সম্পর্কের মোড় ঘুরানোর ইঙ্গিত, তেমনি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা আরও গভীর হবে।
আল জাজিরার বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, ডিসেম্বরের শেষ দিন ঢাকায় খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধির মধ্যে করমর্দনের ঘটনা ঘটে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর পাকিস্তানের স্পিকার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ ভবনের একটি নিরপেক্ষ কক্ষে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকালে তারা হাস্যোজ্জ্বল মুখে একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে তেমন গুরুত্ব পেয়েছে কারণ এর মাত্র কয়েক মাস আগে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দল পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সাথে একত্রে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কিন্তু এই সাম্প্রতিক দৃশ্য দেখিয়ে দেয়, রাজনৈতিক বৈরিতা কিছুটা হলেও নমনীয়তায় রূপ পাচ্ছে।
তবে, সম্পর্কের একে অপরের সঙ্গে বিরাজমান টানাপোড়েন যেন একটুও কমে যায়নি। ২০২৫ সালের মে মাসে, কাশ্মিরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পরিস্থিতি জটিলতর হয়। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে সাথে সাথে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও দেশ দুই চার দিন ধরে প্রায় তীব্র সামরিক সংঘর্ষের দিকে এগিয়ে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে এই সংঘাত থামলেও, এই পরিস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা বোঝায়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের অবস্থান বর্তমান সময়ে শক্তিশালী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মধ্যপ্রাচ্য তার সঙ্গে সম্পর্ককে জোরদার করেছে। অন্যদিকে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মধ্যে কিছু টানাপোড়েন চলছেও। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কতটা এগোবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে, অন্তত সংলাপের সূচনা ও স্বাভাবিক সম্পর্কের দিকে কিছু ধাপ এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সর্বশেষ, বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত অগ্রগতি তখনই দেখা যাবে যখন দুই দেশের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি বাস্তবায়িত হতে পারে। সেটি হলে যত বড় অগ্রগতি, ততই আস্থার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। তবে, বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমানে দৃশ্যমান এই করমর্দন বা সৌজন্য বিনিময় কেবলই প্রাথমিক ধাপ। ভবিষ্যতে সত্যিকারের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটলে, সেটি হবে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।






