জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের সমুদ্র ও নৌবন্দরগুলোতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, তীব্রতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫’ প্রণয়ন করেছে। এই নতুন বিধিমালা ৩০ ডিসেম্বর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়, যা দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর আগে শিপিং এজেন্টদের জন্য আলাদা কোনো নীতিমালা ছিল না, এবং তারা মূলত কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০ অনুসরণ করে কাজ করতেন। এই নতুন স্বতন্ত্র বিধিমালা জারির ফলে শিপিং এজেন্টদের কার্যক্রম সহজ, আধুনিক ও দুর্বার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে আমদানিকারক এবং রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এই বিধিমালার মূল লক্ষ্য।
নতুন এই বিধিমালা লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এনে দিয়েছে, যা আমলাতান্ত্রিক ঝামেলা কমাতে সাহায্য করবে। এখন থেকে কাস্টমস স্টেশন ভিত্তিক লাইসেন্সের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পূর্ব অনুমোদনের প্রয়োজন থাকবে না। এর ফলে লাইসেন্সের জন্য আবেদন দ্রুত processed হবে এবং সময় কমবে। তদ্ব্যতীত, শিপিং এজেন্টদের লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি কর্তৃক দেওয়া লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রয়োজন আর থাকবে না। আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিক থাকলে, সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে লাইসেন্স পাওয়া নিশ্চিত করা হয়েছে, যা নতুন উদ্যোগপতিদের জন্য ব্যবসায় প্রবেশের জন্য সুবিধাজনক পদক্ষেপ।
অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, লাইসেন্সের ভৌগোলিক পরিধি বৃদ্ধি। আগে একটি নির্দিষ্ট কাস্টমস স্টেশন থেকে ইস্যুকৃত লাইসেন্স শুধুমাত্র সেই স্টেশনের জন্য কার্যকর ছিল, ফলে ব্যবসায়ীরা একাধিক লাইসেন্স নিতে বাধ্য হতেন। তবে এখন একবার লাইসেন্স নিলে, দেশের যেকোনো সমুদ্র বা নৌবন্দর এলাকায় তার কার্যক্রম চালানো যাবে। এভাবে ব্যবসার সুবিধা বেড়ে যাবে, ব্যয় কমবে ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দ্রুতগতির হবে। এনবিআর জানিয়েছে, দেশের বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সহজতর করতে তারা এই ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে চান।






