ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর গ্রামে বসবাস করেন ৫০ বছর বয়সি মসুদা বেগম। জন্ম থেকেই তিনি স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে হাঁটতে পারেন না। শুধুমাত্র হাঁটতে পারা নয়, তিনি একজন বাকপ্রতিবন্ধী। দুটি হাত ও দুটি পা ভর করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলাই তার জীবনের একমাত্র ভরসা। এইভাবেই প্রতিদিন তিনি নিজের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
মসুদার জীবন যেন দুঃখ ও সংগ্রামের এক জীবন্ত ছবি। অন্যদের মতো স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়ে হাঁটা তার ভাগ্যের বাইরে। গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ ধরে তিনি যখন দুই হাত ও দুই পা দিয়ে মাটিতে ঠেকিয়ে ধীরে ধীরে সামনে অগ্রসর হন, তখন অনেকেই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন। আবার কেউ কেউ ফিরিয়ে নেন চোখ, কিন্তু তাদের দৃষ্টিতে মসুদার জীবনের কষ্ট ও যন্ত্রণার গভীরতা বোঝা যায় না।
স্থানীয়রা জানায়, মসুদা জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। বর্তমানে তার বাবা-মা আর নেই। তার একমাত্র ভাইই এখন তার আশ্রয়। ভাই দিনমজুরি করে সংসার চালান, কিন্তু পরিবারের জন্য আগের মতো আর্থিক সহায়তা দিতে পারেন না। স্বল্প আয়ের এই ভাই খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, আর দয়ালু কেউ যদি কিছু সাহায্য করে, সেটাই তার জন্য একমাত্র আশ্রয়।
প্রতিবেশী মাওলানা শাহে আলম বলেন, ‘চিকিৎসার অভাবে তার শারীরিক অবস্থা উন্নতি হয়নি। সে সরকারি কোন সহায়তাও পান না। স্থানীয়ভাবে অনেকবার সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে হয়তো একটি হুইলচেয়ার বা চলাফেরার উপযোগী কোন সহায়কযন্ত্র পেতো। কিন্তু দারিদ্র্য ও অবহেলার কারণে সেই স্বপ্ন আজও অপূর্ণই রয়ে গেছে।’
অন্য এক প্রতিবেশী ইউনুস বলেন, ‘মসুদা জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। এক ভাই আছেন, তিনি ও অসহায়। কিছু সহযোগিতা পেলে পরিবারের খরচ চালাতে পারতো। তবে তিনি কোন রাষ্ট্রীয় সাহায্য পান না। যদি সরকার থেকে সাহায্য পেত আর কিছুটা স্বচ্ছলতা আসতো।’
তার ভাই বেল্লাল বলেন, ‘আমার পাঁচ বোন এবং আমি সবার ছোট। প্রতিবন্ধী বোনটি আমাদের বড়। আমার বোন এখনো কোন ভাতা বা সাহায্য পাচ্ছে না। আমি নিজে কাজ করি পড়ে, পরিবারের খরচ চালানোর জন্য আর বোনের চিকিৎসার জন্য। সরকারের কাছে আমাদের সাহায্য চাই।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসাইন বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। দ্রুত মসুদাকে সরকারি ভাতার আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।’






