বলিউডের প্রবীণ অভিনেত্রী জয়া বচ্চন আর পাপারাজ্জিদের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে, যা এখন চরম দিকিয়ে গেছে। সম্প্রতি জয়া বচ্চন পাপারাজ্জিদের ‘অশিক্ষিত’ এবং ‘রুচিবোধহীন’ বলে অভিহিত করে তাদের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই মন্তব্যের পর পাপারাজ্জিরা প্রতিরোধে নেমে এই অভ্যন্তরীণ কলহের ব্যাপারে কঠোর বিদ্রূপ ও সমালোচনার ভাষায় উত্তর দিয়েছেন। ভারতের জনপ্রিয় পাপারাজ্জি বারিন্দর চাওলা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, একজন সম্মানিত জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী হয়তো তিনি, কিন্তু এর জন্য কারো ব্যক্তিগত জীবন বা পোশাকের বিষয়ে আক্রমণ করার অধিকার নেই। এই ঘটনার ফলে পাপারাজ্জিরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন এবং মনে করছে, জয়া বচ্চন ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের পেশাকে অবজ্ঞা ও অপমান করেছেন।
বারিন্দর চাওলা একটি সাক্ষাৎকারে জয়া বচ্চনের কঠোর আচরণের প্রতি কড়া সমালোচনা করে বিকল্প পথের সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, যে কোন তারকা যেন যদি জাগতিকতায় নিজেকে নিরাপদ রাখতে চান, তবে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পেছনের দরজা বা গোপন প্রবেশদ্বার ব্যবহার করতে পারেন। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, বেশিরভাগ বড় বড় অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য মূল প্রবেশপথ এবং রেড কার্পেটের পাশেই রয়েছে গোপন পথ, যা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বচ্ছন্দতা রক্ষা করা যায়। কিন্তু জয়া বচ্চন রেড কার্পেট বা মূল পথ দিয়ে হাঁটবেন এবং ছবি তোলা এড়িয়ে যাবেন বলাটা হাস্যকর এবং অগ্রহণযোগ্য। বারিন্দর আরও উল্লেখ করেন, আলিয়া-রণবীর কিংবা বিরাট-অনুশকা মত জনপ্রিয় তারকারাও অনুরোধ করেন তাঁদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য। তারা বিনয়ীভাবে এটি করেন, যা পাপারাজ্জিরাও শ্রদ্ধার সঙ্গেই গ্রহণ করে থাকেন।
গত ডিসেম্বরে এক পাবলিক ইভেন্টে ছবি তোলার সময় জয়া বচ্চন রাগলম্বিতা দেখান এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে বিরুপ মন্তব্য ছুঁড়ে দেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, নোংরা জামাকাপড় পরা এই ব্যক্তিরা কি সত্যিই শিক্ষিত? এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হন তিনি। সাধারণ দর্শকদের পাশাপাশি বহু বিনোদনপ্রেমীও এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে থাকেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে অনেক পাপারাজ্জি ও ফটোগ্রাফার জয়া বচ্চনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বদলে তাঁকে পুরোপুরি বয়কট করার পরিকল্পনা শুরু করেছেন। এই বিতর্কের ফলশ্রুতিতে বচ্চন পরিবারের এই জ্যেষ্ঠ সদস্যের ব্যক্তিত্ব ও ভাবমূর্তির ওপর আবারও চাপ স্হাপিত হলো।






