ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সফলমরী অভিযানের মাধ্যমে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক পর্যায় সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতা এবং দেশের বিশাল জ্বালানি তেল সংগ্রহের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর ওয়াশিংটনের এত গভীর আগ্রহের আসল কারণ কী। বিশ্লেষকদের মনে করা হয়, এই আগ্রহের পেছনে মূল কারণ হলো দুই দেশের জ্বালানি তেলের মানের পার্থক্য এবং ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা। এই কৌশলগত পদক্ষেপটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিষয়ক সংস্থা ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্যমতে, দেশের জ্বালানি তেলের বড় অংশ অতি হালকা প্রকৃতির, প্রচলিত ভাষায় যাকে বলা হয় ‘সুইট ক্রুড’। এই ধরনের তেল গ্যাসোলিন বা পেট্রোল তৈরির জন্য উপযোগী হলেও ভারি শিল্পকারখানা ও ভারী যানবাহনের জন্য সামান্য সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার খনিগুলো থেকে পাওয়া যায় অত্যন্ত ভারী ও ঘন অপরিশোধিত তেল। এই ‘হেভি ক্রুড’ বা ভারী তেল পরিশোধন করে ডিজেল, অ্যাসফল্ট এবং ভারি শিল্প যন্ত্রপাতির জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও শিল্পের জন্য অপরিহার্য। ফলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিজের হালকা তেলের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার ভারী তেলের নিয়ন্ত্রণ খুবই লাভজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তেলের গুণগত মানের স্তর এবং ভৌগোলিক স্থানও এই আগ্রহের বড় কারণ। ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত হওয়ায় এটি ভৌগোলিকভাবেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি করতে যে সময় ও খরচ পড়ে, সেই তুলনায় ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সংগ্রহ অনেক কম খরচে ও দ্রুত সম্ভব। ইআইএ এর হিসেব অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে, যা বিশ্বের মোট তেল সম্পদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এত বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও রাজনৈতিক নানা সংকটের কারণে দেশটি বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করতে সক্ষম, যা বৈশ্বিক সরবরাহের মাত্র 0.8 শতাংশ। এই বিশাল অব্যবহৃত মজুত কাজে লাগিয়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।






