বাংলাদেশে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর emerging নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের লড়াই ও সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন বিপ্লবের দরজা খুলেছে, তা যেন বৃথা না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশকে অগ্রগামী ও স্থিতিশীল গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিতে সরকার ও বিরোধী দলের পক্ষগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তারেক রহমান মনে করেন, যদিও রাজনৈতিক মতভিন্নতা রয়েছে, তবু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ও জাতির সার্বিক উন্নতির জন্য এখন ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা সবচেয়ে জরুরি।
বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এবং এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও অংশ নেন। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বকাল, আসন্ন নির্বাচন ও দেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম। তিনি বারবার উল্লেখ করেন যে, একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে ছাত্র-জনতা, সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য সকল রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব অপ্রতিম। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দায়িত্বশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
মতবিনিময় সভার আগে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁরা কার্যালয়ে উপলব্ধ শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অদম্য নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। এই দলের পক্ষ থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, শরীফ নুরুল আম্বিয়া এবং নাজমুল হক প্রমুখ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের মাধ্যমে জানানো হয় যে, এই সফরটি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও জাতীয় একতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনের অংশ।
অন্যদিকে, আলোচনায় বাম জোটের নেতারাও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের পরামর্শ ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মুশতাক হোসেন, বজলুর রশীদ ফিরোজ, রাজেকুজ্জামান রতন, ইকবাল কবীর জাহিদ ও মোশরেফা মিশু। তারেক রহমান গুরুত্ব সহকারে তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং রাজপথের সকল শক্তিকে একত্রিত ও প্রতিনিধিত্বশীল করে তুলতে মতভেদ ভুলে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপি ও বামপন্থী দলের এই শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ জাতীয় রাজনীতির নতুন মেরুকরণ এবং ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।






