টাঙ্গাইলের মধুপুরের গহীন বাগানে রসালো আনারসের ঢাকা সফরের রোমাঞ্চকর গল্প নিয়ে শিশুদের জন্য বিশেষভাবে মঞ্চস্থ হয়েছে নাটক ‘আনারসের ঢাকা সফর’। এই নাটকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কীভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ফল শহরের ব্যস্ত জীবনে আসে এবং তাদের বিক্রির মাধ্যমে কৃষক ফুলগাজির স্বপ্নের প্রেরণা ও ভবিষ্যতের বাঁধ নির্মাণের গল্প। ৩০ ডিসেম্বর বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে এই নাটক পরিবেশিত হয়, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। মূলত এই নাটকের মাধ্যমে শিশুদের সৃজনশীল বিকাশের পাশাপাশি গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে শহুরে জীবনের সংযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে।
নাটকের গল্পে পরিবেশবান্ধব ও পরিবেশসম্প্রীতিপূর্ণ চাষাবাদের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। রাসায়নিক সার বা বিষমুক্ত আনরসের চাষের সংগ্রামের বর্ণনা সহজ ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গোপালের নির্জন বাগানে শেয়াল, কোকিল, কাক, ইঁদুর ও বিড়ালের খুনসুঁটি আর দুষ্টুমির পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে আনারসের আত্মত্যাগের গল্প দর্শকদের আবেগে ভরিয়ে তোলে। গল্পের ধারায় দেখা যায়, ঢাকার কারওয়ান বাজারে পৌঁছানোর পর শহরের ব্যস্ততা ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশে আনারসের জীবনের নতুন চেহারা ফুটে ওঠে। বিক্রির পরিবেশে উঠে আসে কৃষকের পরিশ্রম, আশা ও শ্রমের জীবন্ত ছবি। সব আনারস বিক্রি হয়ে গেলে, দুইটি আনারস আবারও মধুপুরে ফিরে আসে, যা ফুলগাজির বাগানে নতুন স্বপ্ন ও আশার বার্তা এনে দেয়।
অত্যন্ত সময়োপযোগী এই নাটকটি রচনা করেছেন খ্যাতনামা শিশুসাহিত্যিক আনজীর লিটন এবং এর নির্দেশনায় ছিলেন মনামী ইসলাম কনক। সহযোগী নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন মনিরুজ্জামান রিপন। এই মঞ্চপ্রতিষ্ঠান ‘ঢাকা লিটল অপেরা’ এর জন্ম ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর, যা শিশুদের আবৃত্তি, অভিনয়, নৃত্য ও বাচিক শিল্পের মাধ্যমে মঞ্চে পারদর্শিতা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। ‘আনারসের ঢাকা সফর’ নাটকের মাধ্যমে তারা কেবল শিশুসুলভ বিনোদনই প্রদান করেননি, বরং আধুনিক সমাজের জন্য নিরাপদ খাদ্য অভ্যাস ও কৃষকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের বার্তাও পৌঁছে দিয়েছেন। শিল্পবোদ্ধাদের মতে, এই ধরণের কাজ শিশুদের মনস্তত্ত্ব, পরিবেশ সচেতনতা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যা সুস্থ ধারা ও উত্তম সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।






