বলিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী এবং বিশ্বজুড়ে পরিচিত ডিজে দীপিকা পাড়ুকোনের আজ ৪০তম জন্মদিন। ১৯৮৬ সালের ৫ জানুয়ারি ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া এই তরুণী আজ কেবল একজন সফল অভিনেত্রীই নয়, বরং ভারতের নারীদের আত্মবিশ্বাস এবং সাফল্যের প্রতীক হিসেবে নিজেদের স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর এই বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ভক্ত-অনুরাগী এবং সহকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা পাঠাচ্ছেন। ডেনমার্ক থেকে শুরু হওয়া তাঁর জীবন যাত্রা আজ বিশ্বের মঞ্চে এসে পৌঁছেছে, যেখানে তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন যে, মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সব বাধা অতিক্রম সম্ভব।
এই ৪০তম বছরটি দীপিকার জন্য বেশ অনন্য এবং তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক বছর ধরে তাঁর পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত জীবন অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। সাধারণত তিনি জাঁকজমকপূর্ণ পার্টি আর রঙিন উৎসবের মাধ্যমে জন্মদিন উদযাপন করতেন, কিন্তু এই বছর পরিস্থিতি তারও প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, এ বছর তিনি নিউ ইয়র্কের শান্ত পরিবেশে স্বামী রণবীর সিং এবং তাদের ছোট সন্তানের সঙ্গে জন্মদিন পালন করছেন। মাতৃত্বের স্বাদ তার জীবনে এসেছে নতুন এক অঙ্গ, আর তাই এই জন্মদিনের কৃতিত্ব তিনি মূলত পরিবারকেই দিচ্ছেন। পারিবারিক শান্তির এই মুহূর্তগুলো যেন তাঁর নতুন জীবনের এক অসমাপ্ত আত্মোপলব্ধির প্রতিচ্ছবি।
যদিও জন্মদিনের মূল উদযাপন পারিবারিক সেটিও, কিন্তু দীপিকা এক বিন্দুও ভক্তদের জন্য নিজের অনুভূতি লুকাননি। গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫-এ মুম্বাইয়ের একটি মিলনায়তনে তিনি ভক্তদের সঙ্গে এক বিশেষ ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে তিনি কেক কাটা এবং খোলামেলা আড্ডার মাধ্যমে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাশে থাকা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলতে থাকেন, এই দীর্ঘ যাত্রায় যারা তার ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন, তাঁদের সঙ্গে এই মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়া তার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। তার এই আন্তরিকতা এবং ভক্তপ্রেম তাকে অন্য সকলের থেকে আলাদা করে তোলে।
২০০৭ সালে ‘ওম শান্তি ওম’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে তারকার শুরু থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীপিকা এক রূপকথার মতো ক্যারিয়ার তৈরি করেছেন। তিনি কালক্রমে আন্তর্জাতিক প্রজেক্টে কাজ করেছেন, সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘লাইভ লাভ লাফ’ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি সমাজের অন্ধকার দূর করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ৪০ বছর বয়সে এসে তার ব্যক্তিত্ব আরো বিকশিত হয়েছে; তিনি শুধু একটি চলচ্চিত্র তারকা হিসেবেই নয়, একজন অনুপ্রেরণার উৎস। তার অভিনীত ‘পিকু’, ‘পদ্মাবতী’, ‘মাস্তানি’ সহ বিভিন্ন চরিত্রে তিনি কোটি কোটি মনকে ছুঁয়েছেন।
বিশ্বমানের ফ্যাশন ব্র্যান্ডের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর অথবা অস্কার মঞ্চের উপস্থাপিকা—দীপিকা বারবার প্রমাণ করেছেন যে, বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জন্মদিনে শুভেচ্ছার পাশাপাশি এখন দেখা যাচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার লহরাও। ভক্তদের প্রত্যাশা, এই ৪০তম বছরে দীপিকা যেন আরো বেশি উজ্জ্বল হয়ে ফিরেন রূপালি পর্দায় এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ চালিয়ে যান। এই পথচলা শুধু তার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের নারী প্রজন্মের জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।






