২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্ল্যাকআউট করে সাধারণ জনগণের তথ্য লুকানোর অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বুধবার এক আদেশের মাধ্যমে আগামী ১১ জানুয়ারি (রোববার) এই শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আদালত অভিযোগ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নথিপত্র উপস্থাপনের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, এই মামলায় বর্তমানে পলাতক থাকা সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন, যার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে জানা গেছে, মূলত তিনটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের উল্লেখ, আন্দোলনের সময় সোনারগঞ্জ, ঢাকা, খুলনা ও অন্যান্য এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন এই দুই ব্যক্তি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে দেশের সব এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ছিল, যাতে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ না পায়। পাশাপাশি তারা মূলত মিথ্যা তথ্য প্রচার করে, অভিযোগ করে যে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট লাইন পুড়িয়ে দিয়েছে, যা তদন্তে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। পলাতক থাকাকালে সজীব ওয়াজেদ জয় ভার্চুয়াল আইনি লড়াই চালানোর জন্য আদালতের নির্দেশনায় রাষ্ট্রীয় আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার কার্যক্রমও দ্রুতগতির মধ্যে রয়েছে। সেখানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনের হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই মামলাগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের নৃশংসতা ও বিগত সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের অপরাধের সত্যতা উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রোববারের শুনানির মাধ্যমে এই হাইপ্রিলফাইল মামলার পরবর্তী বিচারধাপের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাবেন আইনজীবীরা এবং দেশজুড়ে জনমত ও কৌতূহল বেড়ে যায়। এই সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সত্যের আলোর মুখ দেখানো আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষরা।






