আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনি সমঝোতা ও আসন বণ্টন প্রক্রিয়া এখন ব্যাপক জটিলতার মধ্যে পড়ে গেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রথম যাচাই-বাছাইয়ে জোটের শরিক দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। থেকে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোন দল শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে—তা স্পষ্ট নয়, ফলে চূড়ান্ত আসন বণ্টন এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন জোটের নীতিনির্ধারকরা। এই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য আজ বুধবার বিকেলে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। তবে নেতা গণ দাবি করেছেন, এই জটিলতা জোটের ঐক্য বা সমঝোতাকে কোনোভাবেই অপ্রভাবিত করবে না। তবে মাঠের পরীক্ষায় দেখা গেছে, জোটের পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিভাজন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জোট সূত্রের মতে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে শরিক দলগুলো মোট ৬৫টি আসন ছেড়ে দেওয়ার জন্য সম্মত হয়েছিল। এর মধ্যে, এনসিপি একাই ৩০টি আসনে অংশ নেবার পরিকল্পনা করেছিল। এছাড়া, মামুনুল হক নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৩টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি, এলডিপি ও অন্য অংশের খেলাফত মজলিসের অংশকে প্রত্যেককে ৬টি করে আসন দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। আরও অন্যান্য, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন ১৮৩ আসনে সমঝোতা করেছিল, যেখানে সাধারণত ৩১টি আসনে জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে দেখা গেছে, জামায়াতের ৯জন, ইসলামী আন্দোলনের ৩৯জন, এনসিপির ৩জন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ১১জন প্রার্থীর মনোনয়পত্র বাতিল হয়েছে। এতে অনেক আসনে জোটের একক প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এছাড়াও তৃণমূল পর্যায়ের আসনগুলিতেও এই জটিলতা প্রবল আকার ধারণ করেছে। যেমন, কুড়িগ্রাম-৩, যশোর-২, ঢাকাসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা জোটের একক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আবার মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী নূর হোসাইন নূরানীর সমর্থনে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি। কিন্তু নূরানীর মনোনয়ন বাতিল হওয়াতে এখন সেই আসনে জোটের অন্য শরিক—ইসলামী আন্দোলন বা খেলাফত মজলিসের কিছু অংশ—প্রার্থীতা দাবি করছে। এসব পরিস্থিতিতে, একদিকে মূল দলগুলো নিজের ভাগের আসন বা জামায়াতের জন্য নির্ধারিত আসনগুলো দাবি করতে শুরু করেছে, যা জোটের অভ্যন্তরে নতুন সংঘর্ষ ও দরকষাকষির পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
জোটের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী মহাসচিব হামিদুর রহমান আযাদ, যিনি নিজেও কক্সবাজার-২ আসন থেকে প্রার্থী ছিলেন কিন্তু মনোনয়ন বাতিল হয়, তিনি এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বকে দায়ী করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, নির্বাচন কমিশনের আপিলের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব, এবং প্রার্থিতা ফিরলে আসন বণ্টনও চূড়ান্ত করা সহজ হবে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমদ শেখ মনোনয়নের বিলম্বের কথা স্বীকার করে নিলেও বলেছেন, প্রার্থীরা মাঠ ছাড়ছেন না। এখন সব চোখ নিবদ্ধ নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে যেখানে এই সিদ্ধান্ত হবে কে কে থাকবেন ভোটের লড়াইয়ে। এই আইনি প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে ১১ দলের এই জোটের চূড়ান্ত নির্বাচনি রূপরেখা।






