জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ও তার সরকার দেশের দায়িত্বভার থেকে সরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন ভারতের কাছে, এই মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বর্তমানে শেখ হাসিনা দিল্লিতে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন, যেখানে তিনি ভারতের স্বার্থের পক্ষে কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ও তার দল সম্পূর্ণভাবে ভারতের সুবিধা নেওয়ার জন্য কাজ করছে, তাই তারা মনে করতে পারে তারা ভারতের সেবাাদাস। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পহরচাদা কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপি আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার প্রতিশ্রুতিপূর্ণ বাবার হাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে, এ দেশের মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে। তারা দুজনেই একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন এবং এক ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু করেন। শেখ হাসিনা সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দীর্ঘ একুশ বছর একনায়কতান্ত্রিক শাসন চালিয়ে আসছেন। এর ফলাফল হিসেবে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার পতন ঘটেছে।
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঠিক স্বীকৃতি দেয়নি। আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে তারা দেশের নাগরিকদের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছে। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা, আলেম সমাজের উপর নির্যাতন চালানো, ও তাদের হত্যা করা এই সরকারের নীতির অংশ। এটি মূলত ইসলামবিদ্বেষী একটি সরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ রাতের অন্ধকারে শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালিয়েছিল ও নিরীহ মাদরাসাছাত্রদের হত্যা করেছে। এভাবেই তারা দেশের গণমানুষের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে গেছে। এর ফলে আওয়ামী লীগকে চিরতরে দেশ থেকে উৎখাত করার কথা জনগণ ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ হবে, সেটার সিদ্ধান্তও জনগণই দিয়েছে—একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নির্মাণের পথই হবে তাদের লক্ষ্য।
প্রসঙ্গত, পহরচাদার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফরিদ আহমদ আজমীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী, পহরচাদা সাংগঠনিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন হায়দার ও অন্যান্য সিনিয়র নেতারা।






