দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়, গত ডিসেম্বর মাসে বিদেশি শিল্পীদের বেশ কিছু কনসার্টের অনুমতি না মিললেও, নির্ধারিত সময়েই শুরু হচ্ছে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই উৎসবের আয়োজন এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে রয়েছে, যেখানে সকল ধরনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শক্তি সঞ্চয় করে উঠছে উৎসবের আয়োজক প্রতিষ্ঠান রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের কর্মীরা। ইতিমধ্যে উৎসবের পুরো শিডিউল প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের উৎসবের উদ্বোধনী সিনেমা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে চীনের প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘দ্য জার্নি টু নো এন্ড’। এই উৎসবটি চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সৃজনশীল চলচ্চিত্রের এক বিশাল মিলনমেলা বসবে।
উৎসবে এবার মোট ১১টি বিভাগে ৭০টির বেশি দেশের ২৪৬টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে। দর্শকরা এই সিনেমাগুলো উপভোগ করতে পারবেন রাজধানীর পাঁচটি ভেন্যুতে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তন ও স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়াম। ১০ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন হবে। উদ্বোধনী পর্ব শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রদর্শিত হবে চীনের ‘দ্য জার্নি টু নো এন্ড’, যা মূলত এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে প্রতিযোগিতা করছে। এরপর একই ভেন্যুতে সন্ধ্যা ৭টায় দেখানো হবে ইরানের বিশেষ সিনেমা ‘উইদাউট মি’।
এ Memন্থের অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘বাংলাদেশ প্যানোরামা’ বিভাগ, যেখানে দেশের ছয় গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতার নির্মিত ৯টি সিনেমা স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সোহেল রানা বয়াতীর ‘নয়া মানুষ’, জোবাইদুর রহমানের ‘উড়াল’, বিপ্লব কুমার পাল বিপুর ‘ধামের গান’, অনন্য প্রতীক চৌধুরীর ‘নয়া নোট’, সুমন ধরর ‘আগন্তুক’, আহমেদ হাসান সানির ‘এখানে রাজনৈতিক আলোচন জরুরি’, মনিরুল হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’, জ্যাক মিরের ‘দ্য স্টোরি অব আ রক’ ও তানিম নূরের ‘উৎসব’। এই শক্তিশালী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের।
এছাড়া, এবারের উৎসবে ‘চায়নিজ ফিল্ম উইক’ নামে বিশেষ একটি বিভাগ থাকছে, যেখানে চীনা চলচ্চিত্রের ১২০ বছর পূর্তি উদযাপন হবে। এর মাধ্যমে দু’দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো টানা নয় দিনব্যাপী এই উৎসবে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নির্মাতা, কলাকুশলী ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মিলনমেলা বসবে। ১৮ জানুয়ারি প্রাপ্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের সম্মাননা প্রদান করা হবে, এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসবের আয়োজন। এক কথায়, ঢাকাবাসীর জন্য নতুন বছরের শুরুতেই এটি এক অনন্য সাংস্কৃতিক উপহার, যা সবার মনে গভীর ছাপ ফেলবে।






