প্রায় সাড়ে সাত বছরের অপেক্ষার শেষ হলেও এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ভুট্টার একটি বিশাল চালান পৌঁছেছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় সদরঘাটের কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে এই ভুট্টার খালাসের কাজ শুরু হয়। এই চালানটি ২০২৫-২৬ অর্থবছর সরকারের ফসল মৌসুমে উত্তর ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা এবং মিনেসোটায় উৎপাদিত ৫৭,৮৫৫ টনের হলুদ ভুট্টা বহন করছে, যা এশিয়া অঞ্চলের অন্যতম বড় বন্দর ওভারসিজ মার্কেট থেকে এলো। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভ্যাংকুভার বন্দর থেকে পাঠানো হয়েছে। ২০১৮ সালের পর এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পশুখাদ্য প্রস্তুতকারকদের জন্য উচ্চমানের ভুট্টা আমদানি করা সম্ভব হলো, যা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উন্নত ও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে কাজে আসবে। দীর্ঘ আট বছর পর এই প্রথম বারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আসায়, কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই উপলক্ষে ‘দ্য রিটার্ন অব ইউএস কর্ন টু বাংলাদেশ’ শিরোনামে ওই অনুষ্ঠানে দেশের জনপ্রিয় শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট এই দিনটিকে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত উল্লেখ করে বলেন, “আমি খুব খুশি এই দিনটি দেখে। দীর্ঘ আট বছর পর ভুট্টার এই প্রথম চালান এলো বাংলাদেশে। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়, কারণ এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের পশুখাদ্য শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের ভুট্টার গুরুত্ব বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি, এই ভুট্টার আমদানি বছরে প্রায় দুই মিলিয়ন মেট্রিক টন পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। আমরা নিশ্চিত করছি ভুট্টার মানের ওপর ও সরবরাহের ক্ষেত্রে।” এই ভুট্টা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ শস্য রপ্তানিকারক কোম্পানি ইউনাইটেড গ্রেইন করপোরেশন (ইউজিসি) রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশে এখন তিনটি বড় পশুখাদ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি—নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ ও নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড—এই ভুট্টা আমদানি করেছে। এমভি বেলটোকিও নামে একটি জাহাজে করে এই ভুট্টাগুলো বাংলাদেশে ঢুকেছে ৩১ ডিসেম্বর, কুতুবদিয়ায়। এরপর ছোট আকারের লাইটার জাহাজে করে এগুলো চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াপাড়ার বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়। বুধবারের অনুষ্ঠানে, যেখানে প্রাথমিকভাবে আড়াই হাজার টনের মতো ভুট্টা খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়, সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। নাহার অ্যাগ্রোর এমডি রাকিবুর রহমান টুটুল বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা এনে দেশের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবো। বাংলাদেশের মোট পশুখাদ্য চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ আমরা দেশের ভুট্টা থেকে মেটাই, আর বাকি অংশ আমদানির ওপর নির্ভর করে।” তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে ভুট্টা সংগ্রহের জন্য আগে আমেরিকা থেকে ৪৫ দিন সময় লাগত। তবে, এখন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় এই সময়কে কমিয়ে এনে খুব শিগগির পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, “দামও প্রায় একইরকম। ব্রাজিল থেকে আনা হলে দাম হয় প্রায় একই, তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের উন্নতির কারণে, আমদানির সময় কিছুটা বেশি হলেও, দাম নিশ্চিতভাবে অপরিবর্তিত থাকবে। বর্তমানে প্রতিটন টনের দাম পড়েছে ২৪৬ ডলার।






