রূপগঞ্জের পূর্বাচলের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ৩০তম আসরে সবসময়ই যেমন আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে তুরস্কের স্টলগুলো, এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। স্টলগুলো যেন একটি ছোট তুরস্কের দর্শনীয় স্থান, যেখানে কেবল অভিনব পণ্যই নয়, তুর্কি নারীদের আতিথেয়তা ও সাবলীল উপস্থাপনা দর্শনার্থীদেরকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ঝকঝক করে ওঠা প্রাচীন অটোমান আমলের মোজাইক ল্যাম্প, হাতে বোনা কার্পেট, সিরামিকের তৈজসপত্র ও বিশ্ববিখ্যাত তুর্কি পারফিউমের স্টলগুলো। বহু দর্শনার্থী আসার কারণে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্মীরা। এসব স্টল এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন দর্শনার্থীরা মনে করেন তারা তুরস্কের বিখ্যাত গ্র্যান্ড বাজারে অবস্থান করছেন। স্টলের ছাদে ঝুলানো হাজার হাজার হাতে তৈরি মোজাইক গ্লাস ল্যাম্প এক অসাধারণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যা তুরস্কের আনাতোলিয়ান সংস্কৃতির একটি প্রাণবন্ত প্রতীক। এই ল্যাম্পগুলো বাংলাদেশের সৌখিন ক্রেতাদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। মেলায় আসা তুর্কি নারীরা শুধু বিক্রয়কর্মীই নন, তারা তুরস্কের সাংস্কৃতিক দূত হিসেবেও কাজ করছেন। তারা দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাচ্ছেন তুর্কি ভাষায়, আর অনেকেই ছোট ছোট কাপের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী তুর্কি চা ও কফি পরিবেশন করে আপ্যায়ন করছেন। কিছু প্রতিনিধি বাংলার ভাঙ্গা শব্দে ‘কেমন আছেন’, ‘ধন্যবাদ’ বলে কথা বলছেন, যা স্থানীয় দর্শকদের কাছে খুবই সহজে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই তুর্কি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সেলফি তোলার প্রবণতা চোখে পড়ছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই স্টলগুলো থেকে বিভিন্ন ধরনের মোজাইক ল্যাম্পের দাম ১,৫০০ থেকে শুরু করে ৫০,০০০ পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। নারীরা বিশেষভাবে আগ্রহী হচ্ছেন অটোমান আমলের নকশা করা আংটি, ব্রেসলেট ও গলার হারগুলোতে, যা ২,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এছাড়া সিল্ক ও পশমের তৈরি অরিজিনাল তুর্কি কার্পেটের দাম একটু বেশি হলেও এর দৃষ্টিনন্দনতা ও দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়। তুরস্কের বিখ্যাত রোজ ওয়াটার ও পারফিউমগুলো ধরা যাচ্ছে ৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে। এইসব স্টলসহ অন্যান্য বিদেশি স্টলে ভিড় মোকাবেলা করতে মেলা কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন। স্টলের আশেপাশে সিসিটিভি ক্যামরা সেটআপ করা হয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবীরা ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছেন, যাতে নারী ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারেন। সর্বোচ্চ ভিড় এড়াতে সুপারিশ করা হয় সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোয়, বিশেষ করে রবিবারের বদলে শুক্র ও শনিবার এ যাওয়ার। মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী মায়মুনা ইয়াসমিন মারিয়া বলেন, ‘তুর্কি ল্যাম্পগুলো দেখতেও সুন্দর এবং এই পরিবেশও দারুণ। বাবার সাথে মেলায় এসে অনেক ভালো লাগছে।’ এই রঙিন আলোকসজ্জার পণ্যগুলো প্রতিটি স্টলকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলেছে। তুরস্কের অলিভ ওয়েল কসমেটিকস ও পাথরের গহনা নারীদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। তুর্কি প্রতিনিধিদের আন্তরিকতা ও তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে দর্শনার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেয়াও বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। মেলা কর্তৃপক্ষের মতে, প্রথম দিন থেকেই বিদেশি স্টলগুলোতে বিক্রির পরিমাণ আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে তুরস্ক, ইরান ও ভারতের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। এবারের মেলায় পরিবেশের কথা চিন্তা করে প্লাস্টিকের এক ব্যবহৃত ব্যাগ এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে সুলোভ মূল্যে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে। মেলার লেআউটের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল, রেস্টুরেন্ট, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে বরাদ্দ করা হয়েছে।






