সারাদেশে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে ও জ্বালানি খাতে লুটপাট বন্ধ করতে একটি মহল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর احتجاجের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবার) ঢাকা মহানগর উত্তর আজ (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে তিতাস গ্যাস ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে।
সমাবেশ শেষে সিপিবির একটি প্রতিনিধিদল তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে ও সাত দফা দাবিucz দাগ জানায়। দাবি গুলির মধ্যে রয়েছে, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ চালু, গ্যাস না থাকলে মাসিক বিলের আদায় বন্ধ করা ও অতিরিক্ত বিলের ফিরতি দাবিসহ, এলপিজি বাজারে সিন্ডিকেট ভেঙে সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করা, সাধারণ জনগণের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারের উৎপাদিত সিলিন্ডার বিতরণ, জ্বালানি খাতের বেসরকারীকরণ নীতি পরিত্যাগ করে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদার, গ্যাস সংকটের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জ্বালানিকে জনস্বার্থভিত্তিক সামাজিক সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে দীর্ঘমেয়াদি, গণমুখী জ্বালানি নীতি প্রণয়ন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহে ভয়াবহ সংকট চলছে। বিভিন্ন অঞ্চলেই ২৪ ঘণ্টা গ্যাস না থাকায় সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন জানান, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের দুর্ভোগের দিকে নজর দিচ্ছে না। তিনি বলেন, সিলিন্ডার গ্যাসের সিন্ডিকেট ব্যবসা চালু থাকায় জনগণের কষ্ট আরও বেড়েছে এবং এটি একটি পরিকল্পিত সংকট। এই সিন্ডিকেট ভাঙা না গেলে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি দুর্বার আন্দোলনের ডাক দেন।
সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, দেশে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে, সহজে সিন্ডিকেট শক্তিশালী হচ্ছে। এই অবস্থায় সিন্ডিকেট ভাঙা না গেলে কৃত্রিম সংকট যদি আরও তৈরি হয় বলে তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।
ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, সরকারের উদ্দেশ্যে পরিষ্কার বার্তা দেন, তারা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করছে। তিনি সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বললেন, যদি এই সময়ের মধ্যে গ্যাস সংকট সমাধান করা না হয়, তাহলে তিনি ও সাধারণ মানুষ নিয়ে একটি দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় নেতা আহম্মেদ সাজেদুল হক, ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর, মহানগর নেতা কল্লোল বণিক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা মিহির ঘোষও উপস্থিত ছিলেন।






