বাংলাদেশ ও জার্মান সরকারের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে প্রস্তাবিত পাঁচটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য মোট ২১.৭৭ মিলিয়ন ইউরোর অনুদান বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে: পলিসি এ্যাডভাইজারি ফর প্রমোটিং এনার্জি ইফিসিয়েন্সি অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি (পিএপি ২), শহরাঞ্চলের সংহতকরণ ও সম্প্রসারণের জন্য শক্তিশালী সমাজমূলক অবকাঠামো (ইন্টিগ্রেট), শিল্প ও পরিবেশের নিরাপত্তা উন্নয়নে পেশাদার প্রশিক্ষণ (পিআরইসিআইএসই), পরিবেশবান্ধব এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা (জিআরএসিই), এবং ডিজিটাল স্কিলসের মাধ্যমে এশিয়ায় সফলতা অর্জন (ডিএস২এস)।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং জার্মান সরকারের জিআইজেড ঢাকা অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর হেনরিখ-জুর্গেন শিলিং এ অনুদান চুক্তিতে উপস্থিত ছিলেন। এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির তথ্য জানানো হয় ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।
প্রতিটি প্রকল্পের বিস্তারিত বাতলে বললে, প্রথমটি পিএপি ২, যা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ দ্বারা ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৯ সালের জুলাই পর্যন্ত চালু থাকবে। এই প্রকল্পের জন্য জার্মান সরকার ৯ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য adalah সামাজিক ও পরিবেশগত দৃষ্টিকোণে স্বচ্ছ জ্বালানি রূপান্তর।
ইন্টিগ্রেট প্রকল্পটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন কাজ করবে, এবং এর মেয়াদ হবে ২০২৩ থেকে ২০২৭। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত প্রতিবন্ধী মানুষ, বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। প্রকল্পের জন্য জার্মান সরকার বরাদ্দ করেছে ৪.৮০ মিলিয়ন ইউরো।
প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা ক্ষেত্রে, পিআরইসিআইএসই প্রকল্পটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতায় ২০২৫ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলবে। এই প্রকল্পের জন্য ৭ মিলিয়ন ইউরো নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের টিভিইটি (টেকনিক্যাল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউশন) খাতের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হবে।
পরিবেশ সংক্রান্ত, জিআরএসিই প্রকল্পটি ২০২৫ সাল থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে ও এর জন্য ০.৮ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু-সচেতন ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী গরম-কন্ডিশনিং (গ্রিন এসি) প্রযুক্তির প্রসার।
অপরদিকে, ডিএস২এস প্রকল্পটি মূলত এশিয়া-প্রতিনিধিত্বমূলক, যেখানে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চলবে এবং এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর জন্য অতিরিক্ত ০.১৭৫২১২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান বরাদ্দ করা হয়। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও শ্রমবাজারে দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে চাকরি সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।
জার্মান সরকার দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। ১৯৭২ সাল থেকে জার্মানির অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তার মোট পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো। বর্তমানে জিআইজেড বাংলাদেশে ১৮টি প্রকল্পে ১০০.৭২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছে।






