ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ম্যানচেস্টার সিটি। লিগের দুই জনপ্রিয় দলের বিরুদ্ধে ড্র করার পর এবার ঘরের মাঠ ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে ব্রাইটনের বিপক্ষে তারা আরও একটি ড্র করে পয়েন্ট হারাল। পেপ গার্দিওলার দল টানা তিন ম্যাচে জিততে পারেনি, যা তাদের শিরোপা দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছে। ম্যাচের প্রথমার্ধে সিটির হয়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্লিং হালান্ড দলকে লিড এনে দেন। এটি ছিল সিটির স্ট্রাইকারের ১৫০তম গোল, যা একটি বড় মাইলফলক। তবে, এই ব্যক্তিগত অর্জনের সুখ দুইটি নয় কারণ দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাইটনের জাপানি উইঙ্গার কাউরো মিটোমা দারুণ একটি নিখুঁত নিচু শটে গোল করে সমতা ফেরান। এর ফলে ম্যাচের ফলাফল ১-১ এ সমাপ্ত হয়।
ম্যাচের প্রথম থেকেই ব্রাইটন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছিল, যার ফলে সিটির রক্ষণভাগ বেশ দুর্বল হয়ে যায়। গোলরক্ষক দোন্নারুমা যদি পাসকাল গ্রস ও কাদিওগ্লুর কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ না ঠেকাতেন, তবে ফলাফল অন্য রকম হতে পারত। প্রথমার্ধে কিছু আক্রমণ সফল হলেও সিটির আক্রমণভাগ কিছুটা নিষ্প্রভ ছিল। একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে, যেখানে ডোন্নারুমা ফাউলের জন্য পেনাল্টির জন্য পরীক্ষা হয়। রেফারি শুরুতেই পেনাল্টি না দিলেও, ভিএআর রিভিউয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বদলানো হয় এবং হালান্ড সফলভাবে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।
বিরতির কিছু সময় আগে ব্রাইটনের তিজানি রেইনডার্স গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে ব্রাইটনের ডিফেন্ডাররা তা গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে সিটি আক্রমণে আনা চেষ্টা চালিয়েও বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে। আর্লিং হালান্ড ও রায়ান চেরকির মতো তারকারা যদি সুবিধাজনক সুযোগ কাজে লাগাতে পারতেন, তবে জয় সম্ভব ছিল। তবে, দলের মূল তিন ডিফেন্ডার—যশকো গাভার্দিওল, রুবেন দিয়াজ ও জন স্টোনস চোটের কারণে এখন মাঠের বাইরে থাকায় রক্ষণে দুর্বলতা দেখা দেয়। এই দুর্বলতা এখন স্পষ্ট।
এই ড্রয়ের ফলে লিগে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। তারা যদি পরবর্তী ম্যাচে লিভারপুলকে হারাতে পারে, তাহলে তাদের পয়েন্ট হবে সিটির চেয়ে ৮ পয়েন্ট বেশি। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য এই পরিস্থিতি শিরোপা ধরে রাখা অনেকটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে, লিগের আপডেট অনুযায়ী, পরিস্থিতি এখন উল্লেখযোগ্যভাবে চ্যালেঞ্জপূর্ণ।






