রাজধানীর বাজারে গত এক সপ্তাহের তুলনায় চাল ও ডালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, দেশের ছোট দানার মসুর ও মুগ ডালের দাম কেজিতে ১৫ টাকা করে বেড়ে বর্তমানে ১৬০ টাকা হয়েছে। এর পাশাপাশি, মোটা দানার মসুরের দাম কমে গেলে এখন কেজিতে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের দাম থেকে ১০ টাকা কম। বাজারে চালের দামের অঘোষিত বৃদ্ধিও লক্ষ্য করা গেছে। নতুন চাল আসার পূর্বে, পুরোনো চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে। এখন ঘোষণা করা হচ্ছে, শিগগিরই নতুন চাল বাজারে আসবে, তবে বিক্রেতাদের আশঙ্কা—নতুন চাল আসার পর পুরোনো চালের দাম আরও বাড়তে পারে।
বাজারে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য মসুর ও মুগ ডালের দাম কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে না; কারণ এই ডালের দামের বৃদ্ধি চলমান। অন্যদিকে, চালের দামের পাশাপাশি, রমজান থাকলেও মাসের দরকারি মাংস ও ডিমের সরবরাহের আকালের কারণে দামে ধারাবাহিক বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিমের বাজারে দেখা দিয়েছে সঙ্কট। ডিমের দামের এ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে, পুরান ঢাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীর মন্তব্য, ডিমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। আগে যেখানে ডিমের দাম ছিল ১১০ টাকা, এখন তা বেড়ে গেছে ১২০ টাকায় ডজনপ্রতি।
তারা আরও জানান, ফার্মের মুরগির দামও বাড়ছে, বর্তমানে প্রতিটি কেজিতে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৭৫০ টাকা। মাংসের বাজারে, গরুর মাংসের বর্তমান দাম প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, যা দুদিন আগের তুলনায় ৫০ টাকা বেশি। এর জন্য মূলত বাংলাদেশে কম গরু থাকাকা এবং ভারতের গরু আসার বন্ধ থাকাকেই দোষ দিচ্ছেন বাজারের বিক্রেতারা। বর্ডার বন্ধ থাকায়, ভারতীয় গরু এখন খুব বেশি আসছে না। এ কারণে, মাংসের দাম ঊর্ধ্বমুখী।
ক্রেতারা বলছেন, এখন মাংস সংগ্রহ করা দুষ্কর হয়ে গেছে, কারণ দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। কেউ কেউ বলছেন, এখন কেজি দরে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বেড়ে গেছে মাংসের দাম। অন্যদিকে, মাছের বাজারে, বড় রুই মাছ কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৮০-২০০ টাকা, এবং হাইব্রিড কৈ মাছও একই দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে, দেশি মাছের দাম অত্যন্ত উচ্চ; যেমন, দেশি শোল মাছ এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কেজিতে, আর কৈ মাছ ৭০০-৮০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা জানান, চাষের মাছের দাম কিছুটা কমেছে, কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।
নতুন মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহও বেশি হয়েছে। ভারতীয় ও দেশীয় পুরোনো পেঁয়াজ এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে, প্রতি কেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম ৬০-৬৫ টাকা, আমদানিকৃত ৬৫-৭০ টাকা, আর দেশীয় পুরোনো পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেশি, ৮০-৯০ টাকা কেজি।
সবজির বাজারে প্রাপ্তি অনেকটাই সহজ হয়েছে। মুলা ২৫-৩০ টাকা, শালগম ৩০-৪০ টাকা, গোল ও লম্বা বেগুনের দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা। শিম ও মিষ্টি কুমড়ার দাম প্রত্যেক ৫০ টাকা, পেঁপের দাম ৪০ টাকা। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০-৪০ টাকা, আর করলা ৫০ টাকা। দেশি গাজর ৪০ টাকা, কাঁচকলার হালি ৪০ টাকা, ছোট সাইজের লাউ ৪০-৫০ টাকা। তবে পাকা টমেটো এখনও কেজিতে ৯০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ একশো থেকে দHotoffee ১২০ টাকায় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। মটরশুঁটির দাম কমে এখন কেজিতে ১০০ টাকা।






