আদিত্য ধর পরিচালিত এবং রনবীর সিং এর অভিনয়ে নির্মিত এই জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘ধুরন্ধর’ ভারতীয় বক্স অফিসে এক নতুন ইতিহাস রচনা করে চলেছে। এই সিনেমাটি হিন্দি ভাষার সিনেমার মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আয় করে সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করার পাশাপাশি এটি দর্শকদের মন জয় করেছে সমালোচকদের প্রশংসাও।
‘ধুরন্ধর’ প্রথমে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে। এই সিনেমাটি পুষ্পা ২ এর মতো বড় বাজেটের হিন্দি ডাব সংস্করণের সিনেমাকে পরবর্তীতে পেছনে ফেলে দিয়েছে আয়ের দিক থেকে। এটি কেবলমাত্র ভারতের নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। ভারতের বাজার থেকে এর আয় ইতিমধ্যেই ৯৮১.০৫ কোটি রুপি অতিক্রম করেছে, যা সিনেমার অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তা নির্দেশ করে। এ ছাড়া এই সিনেমাটি আন্তর্জাতিক বাজারে মোট আয়ে প্রায় ৩০.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে, যেখানে উত্তর আমেরিকা সবচেয়ে বেশি আয় করে অব্যাহত রেখেছে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাজ্যেও এই সিনেমা চমৎকার উপস্থিতি দেখিয়েছে, যেখানে এটি যথাক্রমে সর্বোচ্চ আয়ের ভারতীয় সিনেমার তালিকায় অবস্থান করছে। বিশ্বব্যাপী এর মোট আয় এখন পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে, যেখানে উপরে রয়েছে ‘দঙ্গল’, ‘বাহুবলী ২’, ‘পুষ্পা ২’ এবং ‘আরআরআর’ সিনেমাগুলি।
সিনেমার মূল শক্তি এর গল্প বলার ধরণ এবং শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয়। দুই অংশে বিভক্ত এই কাহিনীর প্রথম ভাগে একজন ভারতীয় গুপ্তচরের করাচির অপরাধ এবং রাজনৈতিক জগতের গোপন রহস্য ভেদ করার এক রোমাঞ্চকর অভিযান ফুটে উঠেছে। রনবীর সিংয়ের দাপুটে অভিনয় এবং অক্ষয় খন্নার খল চরিত্রের অনবদ্য শৈলী দর্শকদের মন জয় করেছে। এছাড়া, এই বিশাল প্রকল্পে অভিনয় করেছেন সঞ্জয় দত্ত, আর. মাধবন, অর্জুন রামপাল ও সারা অর্জুনের মতো জনপ্রিয় তারকারা। এটি প্রথাগত বাণিজ্যিক ধরণ থেকে আলাদা হয়ে উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক থ্রিলার হিসেবে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বিশাল এই সফলতার পর নির্মাতারা এখন ‘ধুরন্ধর২’ নামে দ্বিতীয় কিস্তি তৈরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এয়ার আগামি ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ, এই সিনেমাটি একযোগে হিন্দি, তেলুগু, তামিল, কন্নড় ও মালয়ালম ভাষায় মুক্তি পাবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের বাজারের চাহিদাকে বিবেচনা করে এই বহুভাষিক রিলিজের পরিকল্পনা হয়েছে, যা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য বাণিজ্যিক কৌশল হিসেবে গণ্য হয়ে উঠছে। প্রথম অংশের রহস্যময় ক্লিফহ্যাঙ্গার বা অসম্পূর্ণ মোড়ের ফলে দ্বিতীয় অংশের কাহিনী শুরু হবে বলে পরিচালক আদিত্য ধর জানিয়েছেন। এই সাফল্যের ধারাটি অব্যাহত থাকলে ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজি বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে ভারতের স্পাই সিনেমার এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।






