বাংলাদেশ এবং জার্মান সরকারের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে পাঁচটি উন্নয়নপ্রকল্পের জন্য মোট ২১.৭৭ মিলিয়ন ইউরোর অনুদান ঘোষণা করা হল। এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে জিআইজেড ঢাকা অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর হেনরিখ-জুর্গেন শিলিং অংশ নেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রথম প্রকল্প পিএপি ২ (পলিসি অ্যাডভাইজারি ফর প্রমোটিং এনার্জি ইফিসিয়েন্সি অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ২) বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিদ্যুৎ বিভাগ দ্বারা ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৯ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত হবে। এই প্রকল্পের জন্য জার্মানি ৯ মিলিয়ন ইউরো অনুদান প্রদান করবে, যা দেশের ন্যায্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরকে সমর্থন করবে। মূল লক্ষ্য হলো প্রাতিষ্ঠানিক, অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদের উন্নতির মাধ্যমে একটি সুষম জ্বালানি ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা।
দ্বিতীয় প্রকল্প, ইন্টিগ্রেট (স্ট্রেনদেনিং আরবান ইন্টিগ্রেশন ক্যাপাসিটিস অব ইন্টারনালি ডিসপ্লেসড পার্সনস অ্যান্ড সাপোর্টিং হোস্ট কমিউনিটিস), সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে। এর জন্য জার্মান সরকার ৪.৮০ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেবে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগে আক্রান্ত, বাস্তুচ্যুত এবং প্রতিবন্ধীদের পাশাপাশি নারীদের জন্য অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথ সৃষ্টি করা।
তৃতীয় প্রকল্প, পিআরইসিআইএসই (প্রফেশনাল এডুকেশন ইন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সেফটি), কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। এতে জার্মান সরকার ৭ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেবে, যার ব্যবহারে বাংলাদেশের টিভিইটি (টেকনিক্যাল ভোকেশনাল এডুকেশন ও ট্রেনিং) খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
চতুর্থ প্রকল্প, জিআরএসিই (গ্লোবাল রুম এয়ার-কন্ডিশনিং প্রকল্প), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত হবে। এ প্রকল্পের জন্য জার্মান সরকার ০.৮ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দিয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো জলবায়ু বান্ধব ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী গ্রীন এসির প্রসার ও প্রচার।
পঞ্চম প্রকল্প, ডিএস২এস (ডিজিটাল স্কিলস টু সাকসিড ইন এশিয়া), মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং এর জন্য অতিরিক্ত ০.১৭৫২১২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে। মূলত এই প্রকল্পটি এশিয়া অঞ্চলের যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে। এটি মূলত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতায় ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চলবে।
জার্মান সরকার দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নে সক্রিয় অবদান রাখছে। ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জার্মানির অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তার মোট পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো। বর্তমানে জিআইজেড বাংলাদেশে ১৮টি প্রকল্পে ১০০.৭২ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা প্রদান করছে।






