বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অসাধারণ ও আবেগময় মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন দর্শকরা। একই দলের জার্সি পরা পিতা-পুত্র আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী এবং তাঁর ১৯ বছর বয়সী ছেলে হাসান ইসাখিল একসঙ্গে মাঠে নামেন, যা ছিল এক অনন্য ঘটনা। এই দলীয় ম্যাচে তারা শুধু মাঠের পারফরম্যান্সে নয়, মনোবলী ও সম্পর্কের দিক থেকেও সবাইকে মুগ্ধ করে তুলেছিলেন। ইসাখিলের অভিষেক ম্যাচে করা ৮২ রানের দারুণ ইনিংস এবং বাবার সাথে চতুর্থ উইকেটে গড়া ৫৩ রানের শক্তিশালী জুটি নোয়াখালীকে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৮৪ রান সংগ্রহ করতে সহায়তা করে। শেষে তারা ৪১ রানের জয় তুলে নিয়ে মাঠ ছাড়ে, যেখানে নবী ও ইসাখিলের রসায়ন ছিল আলোচনা ও প্রশংসার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে ৪১ বছর বয়সী মোহাম্মদ নবী এবং তাঁর তরুণ ছেলে ইসাখিলের মধ্যে এক আন্তরিক ও সুন্দর সম্পর্কের চিত্র ফুটে ওঠে। যেখানে ইসাখিল জানায় যে তাঁরা একে অপরের মতো বন্ধু, নবী হাসিমুখে যোগ করে বলেন যে, ট্রেনিংয়ের সময় তিনি খুবই কড়া থাকেন এবং কোনো অজুহাতই সহ্য করেন না। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে ছেলে ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সব সময়ই চেষ্টা করেন। অভিষেকে নামার আগে মিস না করে ইসাখিলকে তিনি ৯০ মিনিট ধরে বোলারদের ধরন শেখান, যাতে তার ব্যাটিং আরও নিখুঁত হয়। মাঠের খেলার সময়ও নবী প্রতি মুহূর্তে তাঁর ছেলেকে গাইড করেন, কোন ধরণের বল আসতে পারে, যাতে তার খেলায় সহজতা হয়।
নিজের ব্যাটিং স্টাইল নিয়ে ইসাখিল খুবই আত্মবিশ্বাসী এবং স্পষ্টবাদী। অনেকে ধরে নেন যে তিনি বাবার কাছ থেকে অনুকরণ করেন, কিন্তু তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে তাঁর খেলার ধরন পুরোপুরি নিজস্ব ও জন্মগত। নবীও এ ব্যাপারে একমত যে, তাঁর ছেলে কাউকে নকল করেন না, বরং নিজের স্বতন্ত্র ধরন বজায় রাখেন। ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি মিস করার কোনো আফসোস নেই তার, কারণ তার মূল লক্ষ্যই ছিল দলের স্কোর বড় করা। বর্তমানে ঘরোয়া ক্রিকেটে মনোযোগী এই তরুণের স্বপ্ন ভবিষ্যতে বাবার সঙ্গে আফগানিস্তান জাতীয় দলে খেলা এবং বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার। দীর্ঘ সময় ধরে নবীর স্বপ্ন ছিল তাঁর ছেলে একই দলের খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা, যা বিপিএলের এই আসরে সফলতা পেয়েছে।




