কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকা- ঘটেছে। এই অগ্নিকা- স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে, যেখানে অব্যবহৃত ও পুরাতন লোহার যন্ত্রাংশ জমা থাকতো, সেখানে সোমবার রাত ৯টার দিকে শুরু হয়। আগুনের আশঙ্কাজনক ভয়াবহতা দেখা দেয়, তবে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টার চেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার সময় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ফায়ার সার্ভিসের মোট ৬টি ইউনিট—মহেশখালী, চকরিয়া ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিজস্ব ইউনিট—পৌঁছে আগুনে দুর্বৃত্তি ঠেকাতে কাজ শুরু করে। অগ্নিকা- জ্বলন্ত অবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে চললেও বড় কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে আঞ্চলিক সূত্র বলছে, এই অগ্নিকা- মূল উৎপাদন ইউনিট বা বয়লার ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় কাটেনি, ফলে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, এই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে পথশিশুদের অবাধ অনিরাপদ যাতায়াত বা দৌরাত্ম্য, যা দ্বারা অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে। মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অগ্নিতাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত না হলেও অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘন কুয়াশা ও বাতাসের জন্য দমকলের কাজ কিছুটা কষ্টকর হয়। তবে এখন অগ্নিকা- নিয়ন্ত্রণে আসার পর, ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া কমাতে শীতলীকরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা সতর্ক বার্তা দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এর মত ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আধুনিক করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতীয় সম্পদ এই ধরনের ঘটনাগুলোর থেকে শিক্ষা নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে।






