তামিলনাড়ুর করুর জেলায় গত বছর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ পদদলিতকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবে এবার সরাসরি মুখোমুখি হন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও সমাজসেবক থালাপতি বিজয়। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিল্লির সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) সদর দপ্তরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি এক বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে চেন্নাই থেকে দিল্লি পৌঁছেন, তারপর প্রয়োজনীয় তদন্তকালীন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দলের সামনে উপস্থিত হন। বিকেলের দিকে, সোয়া ৬টার পরে তিনি সিবিআই দপ্তর ত্যাগ করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, রাজনৈতিক সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগমের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না পারা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য বিজয়কে প্রশ্ন করা হয়। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রধান সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তের প্রক্রিয়ায় তাঁকে আরও কিছু বিষয়ে স্পষ্টতা চাওয়া হতে পারে। যদিও তাঁকে পুনরায় প্রশ্নের জন্য আগামী মঙ্গলবার হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, অন্য এক সুবিধাজনক তারিখে পুষ্টির জন্য তিনি আবেদন করেছেন, কারণ তিনি আসন্ন পঙ্গল উৎসবের কথা উল্লেখ করেন। সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, মামলার কিছু দিক এখনও অজানা রয়ে গেছে, যা প্রমাণের জন্য বিজয় নিজ বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তামিলনাড়ুর করুরে এক বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সেই ঘটনাস্থলে ভয়াবহ পদদলনের ফলে ৪১ জন মানুষ প্রাণ হারান এবং অন্তত ৬০ জন গুরুতর আহত হন। এই ট্র্যাজেডির পর সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং পুলিশ সুপারদের ব্যাখ্যা এবং কর্মকর্তাদের বক্তব্যে জনআস্থা ক্ষুণ্ণ হয়। এরপর, ২৬ অক্টোবর শীর্ষ আদালত এই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়, যাতে ঘটনার বাস্তবতা উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের দিন সিবিআই কার্যালয়ের বাইরে হাজারো বিজয় সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মী ভিড় জমায়। প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে আসা এই সমর্থকদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে, যেখানে রাজনৈতিক ও আইনি অচলায়তন তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিজয়ের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তদন্তে তারা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করবেন। এখন দেখার বিষয়, সিবিআই কি এই তদন্তে সত্যিকার দায় কার উপর চাপিয়ে দেয় এবং এর সঙ্গে বিজয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কেমন প্রভাব ফেলে।






