ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও পাকিস্তান আনুসময়ে কাশ্মিরে চালানো স্পেশাল সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই তথ্য তিনি মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য শান্তির লক্ষ্য নিয়ে ভারতীয় বাহিনীর সাম্প্রতিক কার্যক্রমের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
জেনারেল দ্বিবেদী পাকিস্তানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যদি পাকিস্তান বা তার সহযোগীরা অন্য কোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেয়, তবে ভারত তার জবাব দেবে অত্যন্ত কঠোর ও কার্যকরীভাবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন সময়ে ভারতীয় সেনারা প্রস্তুত ছিল। পাকিস্তান কোনও ভুল করলেই সোজা অস্ত্রের মাধ্যমে কিংবা স্থল অভিযানে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। সেনাবাহিনীর এই শক্ত প্রতিশ্রুতি পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে যে, ভারত সিরিয়াস এবং সামরিক সক্ষমতায় যথেষ্ট প্রস্তুত।
অপারেশন সিঁদুরের সঙ্গে সংযুক্ত পরিস্থিতির বিশ্লেষণে জানা যায়, গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলা হয়। এই হামলায় স্বীকার করে নেয় লস্কর-ই-তৈয়বার গোষ্ঠী ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’। এর উত্তরে ভারতের পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলসমূহে ৭ মে থেকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। এই ৮৮ ঘণ্টার অভিযানে ভারতের সেনারা পাকিস্তানের গভীরে প্রবেশ করে ব্যাপক আঘাত হানে। এতে শতাধিক সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং তাদের শক্তিশালী অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানের পারমাণবিক ক্ষমতার হুমকিকে মূলত চ্যালেঞ্জ জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সেনাপ্রধান আরও জানিয়ে থাকেন যে, অপারেশন সিঁদুর ছিল বিশেষভাবে রাজনৈতিক নির্দেশনায় পরিচালিত। এটি ছিল ভারতীয় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বিত শক্তিপূর্ন এক নজির। তাঁর মতে, এই ধরনের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মিরের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে ভারত। তবে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও পশ্চিম সীমান্ত ও কাশ্মিরের পরিস্থিতি এখনো খুবই সংবেদনশীল। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের মধ্যে মোট ৩১টি সন্ত্রাসীর মৃত্যু ঘটেছে, যার প্রায় ৬৫ শতাংশ পাকিস্তানি পরিচয়সম্পন্ন। এর সাথে তিনি আরও জানান, ‘অপারেশন মহাদেব’ এর অংশ হিসেবে পেহেলগাম হামলার মূল অপরাধীদেরও নির্মূল করা হয়েছে। বর্তমানে কাশ্মিরে সক্রিয় সন্ত্রাসীর সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে এসেছে বলে ভারতীয় সেনাবাহিনী নিশ্চিত করে। এই পরিস্থিতি কাশ্মিরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতীয় সামরিক প্রস্তুতির স্বপ্রণোদিত প্রমাণ।






