দক্ষিণ এশিয়ায় একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদ্ভাবনী এবং বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে ‘ঢাকা ঘোষণা’ নামে আটটি কৌশলগত অঙ্গীকার। ইউজিসি’র সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ১৫ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা’ শিরোনামে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী দিনে এই ঘোষণা পত্রটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। ইউজিসি’র সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান এই ঘোষণা পাঠ করেন।
উচ্চশিক্ষার অর্থবহতা ও টেকসই পরিবর্তনের জন্য ধারাবাহিক রাজনৈতিক অঙ্গীকার, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব ও আঞ্চলিক সহযোগিতা এই ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঢাকা ঘোষণায় আটটি মূল দিকের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে: যেমন—প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নারীর সমতা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায্য উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্প-একাডেমিয়া অংশীদারিত্ব জোরদার, পাঠ্যক্রম আদান-প্রদান ও কর্মসংস্থান সক্ষমতা, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়, আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি ও জনআস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সুশীল সমাজ, শিল্প ও গণমাধ্যমের সম্পৃক্ততা।
এছাড়া, এই ঘোষণা এוסטרিয়ার অঞ্চলে শান্তি ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির জন্য উচ্চশিক্ষাকে একটি কৌশলগত ক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে ‘সার্ক প্ল্যাটফর্ম’ পুনরুজ্জীবনের জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে। ফলে, নিয়মিতভাবে এই ধরনের সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে এবং পরবর্তী সম্মেলন মালদ্বীপে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনে প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমান ও অন্যান্য শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প’akিস্তান, শ্রীলংका, মালদ্বীপ, নেপাল ও অন্যান্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশের উচ্চশিক্ষা নেতৃবৃন্দও এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সরকার ও বিশ্বব্যংকের অর্থায়নে ইউজিসি পরিচালিত ‘হাইয়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই ঢাকাই ঘোষণা দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষার রূপান্তর সম্পন্ন করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রোডম্যাপ হিসেবে প্রত্যাশিত। অংশগ্রহণকারীরা মনে করছেন, এই অঙ্গীকার থেকে সড়ক তৈরি হবে সামনের দিনগুলোতে একটি উজ্জ্বল, সমন্বিত ও টেকসই উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য।






