আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং পুলিশের ভূমিকা সুদৃढ़ করতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, লুট হওয়া কোনো অস্ত্র নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যবহার করা হবে না। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল এই বার্তা দেন তিনি রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতায়। তাঁর এই বক্তব্য দেশবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও বিশ্বাসজনকতা বাড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানের শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, লুট হওয়া অস্ত্রগুলো যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়াতে কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে, সেই ব্যাপারে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই অস্ত্রগুলোর ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ বিষয়েও কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি সীমান্তে অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত দিয়ে কিছু অস্ত্র ঢুকার চেষ্টা চলছে, তবে সেগুলো নিয়মিত উদ্ধারসহ কঠোর নজরদারি চলমান রয়েছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি স্পষ্ট করে দেন, দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যরা কোনো প্রার্থী বা তার এজেন্টের কাছ থেকে অর্থপ্রদানে বা কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে না। এমনকি কোনও প্রার্থীর প্রতিনিধির কাছ থেকে খাবার কিংবা পানীয় গ্রহণ করাও সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তিনি জানান, এই নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। যদি তারা দায়িত্বশীল এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তবে এটি হবে দেশের মধ্যে সবচেয়ে কল্যাণপুষ্ট, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জঙ্গি দমন কার্যক্রম সম্পর্কে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে জঙ্গি ও চরমপন্থি কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি দাবি করেন, জঙ্গিবাদ এখন মুক্তির পথে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কিছু আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন এবং ফ্যাসিস্ট জঙ্গি সদস্য বিদেশে অবস্থান করছে, যারা আবার দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। সরকার তাদের দ্রুত ফিরিয়ে এনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
সারদায় অনুষ্ঠিত এই জাতীয় বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ ও অতিরিক্ত আইজিপি তওফিক মাহবুব চৌধুরীসহ আরো অনেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এ অনুষ্ঠানে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৮৭ জনসহ বিভিন্ন ব্যাচের মোট ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ এক বছরের কঠোর প্রশিক্ষণের শেষে আজ তারা বাস্তব কাজে যোগদেবেন।
প্রশিক্ষণ শেষে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন। এই বছর সেরা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। অন্য পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন: বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ডে সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী আরিফ, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাকটিভিটিজে সহকারী পুলিশ সুপার সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপে সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ ও বেস্ট শ্যুটার হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার সালমান ফারুক। এই নবীন কর্মকর্তারা এখন মাঠে কর্মরত থাকবেন, তার জন্য তাদের ছয় মাসের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।






