অংশীজনদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা না করে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের হালনাগাদ তালিকা ও দাম নির্ধারণের একতরফা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি (বাপি)। গাজীপুরের এক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি: প্রেজেন্ট চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড ফিউচার প্রসপেক্টস’ শীর্ষক কর্মশালায় এই অভিযোগ তুলে ধরেন বাপির নেতারা। ওখানে বক্তৃতা করেন মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাকির হোসেন, যারা বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া খুবই জটিল এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। তিনি যোগ করেন, দেশের মূল শিল্প অংশীজন থাকার পরও বাপিকে এই সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় নতুন ১৩৫টি ওষুধ যোগ করে মোট সংখ্যা এখন ২৯৫টি। এই নির্দেশনা অনুসারে, সরকার নির্ধারিত দামে ওষুধ বিক্রি করতে হবে এবং প্রতিটি কোম্পানিকে তাদের উৎপাদনের ২৫ শতাংশ ওষুধ এই তালিকার মধ্যে আনতে হবে। কিন্তু ডা. জাকির হোসেন বলেন, এই সিদ্ধান্তগুলো খুবই অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে আরও সাংবিধানিক ও চিন্তাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সরকার যেন এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করে থাকেন, যেন দেশের ওষুধ শিল্পের স্থায়িত্ব ও মান বজায় থাকে।” তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অবিরাম উৎপাদন খরচ, কাঁচামালের আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ও মান নিয়ন্ত্রণের ব্যয় বিবেচনা না করে দাম নির্ধারণ করলে শিল্পের টেকসই উন্নয়ন হবে না।
বাপির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বর্তমান শিল্প পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন এবং জানান, দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ প্রতিষ্ঠান অচলাবস্থায় রয়েছে এবং ইতিমধ্যে ৪০ শতাংশ কোম্পানি বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের মূল্য কাঠামো অনুযায়ী এখন ২০২৫-২৬ সালেও ওষুধ বিক্রির দাবি অত্যন্ত অবাস্তবিক। ১৯৯৪ সালের ওষুধ নীতিকে শিল্পের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মুক্তাদির বলেন, ২০১৬ সাল থেকে চালু করা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও অপ্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তগুলো দেশের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। অনুষ্ঠানে অংশ নেন সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা, যারা শিল্পের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সংকট মোকাবেলায় নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন।






