রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক শিল্প মেলা ‘গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং এক্সপো (গ্যাপেক্সপো)-২০২৬’ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জমকালো সমাপ্তি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশের পোশাক, জুয়েলারি ও প্যাকেজিং শিল্পের বৃহৎ সংগঠন বিজিএপিএমইএ। দেশ এবং বিদেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠান এই মেলায় অংশগ্রহণ করে, যেখানে তাঁরা তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, কাঁচামাল ও পণ্য বিদেশি ব্যবসায়ীদের দেখানোর পাশাপাশি বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজেছেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী অতিথি হিসেবে, সঙ্গে ছিলেন বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার। লক্ষাধিক দর্শনার্থীর ভীড়ে মুখোরিত এই মেলায় ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন খাতের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে আলতাফ হোসেন চৌধুরী পোশাক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের মূল রপ্তানি পণ্য পোশাকের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে গত অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি ছিল ৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সঠিক সুযোগ পেলে এই খাতটি আরও এগিয়ে যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে এ সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করবেন। অন্যদিকে, বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, দেশের প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সততা ও নৈতিকতা অবশ্যই অপ্রতুলতা দূর করতে হবে। তিনি বলেন, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে, অথচ প্রকৃত ব্যবসায়ীরা কখনো দেশের টাকা লুট করে না। ব্যাবসায়িক পরিবেশ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, বাংলাদেশে এই খাতটি দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানির খাত হলেও এটিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তিনি জানান, কাঁচামাল আমদানি করে উল্টো রপ্তানি করা আমাদের সক্ষমতা প্রমাণ করে। আর্থিক বছর মোটামুটি কঠিন সময়গুলো পার করে এবারও আমাদের দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ বাড়াতে একটি স্থিতিশীল এবং বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক সরকার প্রয়োজন। দেশের শিল্পের অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালার প্রভাব বিষয়ে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘আমরা এখন প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে কিছু নীতিমালা আমাদের জন্য ক্ষতিকারক। ‘ফ্রি অফ কস্ট’ আমদানির সুবিধা ১০০ শতাংশ করে দেওয়া হয়েছে, যা আমরা আলোচনা করে কমিয়েছি। যদি সব কিছু বাইরে থেকে আসে, তাহলে আমাদের কারখানা টিকে থাকবেনা। আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বৃদ্ধি করতে হবে। অনুষ্ঠানের শেষ দিনে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮টি স্টলকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ক্রেস্ট দেওয়া হয়, যা তাদের উৎকর্ষতা ও উদ্ভাবনের জন্য বিশেষ সম্মান।






