ইরানে গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনে অন্তত ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশের সরকারি পক্ষ প্রথম স্বীকার করেছে। রবিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির একটি আঞ্চলিক সরকারি কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা যাচাই করে এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। সরকারি ওই কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৫০০ সদস্য রয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজরা নিরীহ ইরানিদের হত্যা করছে।
সরকারি ব্যক্তি জানান, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অঞ্চলে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সক্রিয়তা ও অতীতের সহিংসতার রেকর্ড উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। এর পাশাপাশি, সরকার দাবি করেছে, ইসরায়েল ও বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ করছে। তারা দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য বিদেশি শত্রুদের দায়ী করেছে, যার মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নামও এসেছে।
অপরদিকে, সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণহানির তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো। রবিবার ব্রিটিশ ব্রেকিং সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমস তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানে সরকারের বিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ১৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহতদের বেশিরভাগই ৩০ বছর থেকে কম বয়সী তরুণ, আর আহতের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার। প্রফেসর আমির পারাস্তা, একজন ইরানি-জার্মান চক্ষু চিকিৎসক, বলেন, এই দমন-পীড়নে মিলিটারি গ্রেডের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, আর আক্রান্তের মাথা, গলা ও বুকের গুলির আঘাত দেখা গেছে। এছাড়াও, নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া শটগানের গুলিতে প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারী দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএনএ জানিয়েছে, তাদের তথ্যমতে, নিহতের সংখ্যাReached ৩,৩০৮ জন এবং আরও ৪,৩৮২ জনের মৃত্যুর বিষয়ে তথ্য যাচাই চলছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় ইরানি কর্তৃপক্ষ ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করেছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও নিশ্চিত করেছে যে, ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন কুর্দি এলাকাগুলোতেই সবচেয়ে সহিংস রূপ গ্রহণ করেছিল।
অন্তত, জানানো হয়েছে, এই বিক্ষোভ গত মাসের শেষের দিকে শুরু হয়ে ৭ ও ৮ জানুয়ারি চরম আকার ধারণ করে। তখন পরিস্থিতি এমন ছিল যে, আমо আল্লাহ খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের স্বপ্নও দেখা হয়েছিল। তবে, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন ও নিরাপত্তা措施র কারণে বর্তমানে বিক্ষোভ কমে এসেছে। ডাক্তাররা আরও জানিয়েছেন, দেশের সাধারণ ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকলেও তাঁরা স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাঁরা বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে সক্ষম হয়েছেন, আর এই পরিস্থিতির বর্ণনা দিচ্ছেন।






