আফ্রিকার অন্যতম معتبر ফুটবল প্রতিযোগিতা, আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের ফাইনাল ম্যাচটি ছিল নাটক ও বিতর্কে ভরা এক সুপারহিট প্রদর্শনী। রাবাতের মাঠে বাংলাদেশের সমর্থকদের মতো হাজার হাজার মরক্কোর সমর্থক চোখের পারদ ছুটিয়ে দেখছিলেন এক অ্যাকশন-প্যাকড ম্যাচ, যেখানে শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে জয় লাভ করে সেনেগাল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার পর যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় মাঠ থেকে অসন্তুষ্ট সেনেগালির খেলোয়াড়রা উঠে গিয়ে প্রায় ২০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকলো। এরপর যখন খেলা আবার শুরু হয়, মরক্কো দল মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে, ফলে তাদের শিরোপাপ্রাপ্তি আর হয়ে ওঠেনি।
ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি ঘটে ইনজুরি টাইমের অষ্টম মিনিটে। কঙ্গোলিস রেফারি জ্য-জ্যাকস এনদালা VAR পরীক্ষার পর মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। এটি ঘটে যখন সেনেগালিজ ডিফেন্ডার এল হাদজি মালিক দিওফ ব্রাহিম দিয়াজকে বক্সে ফাউল করেন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছাড়লে পরিস্থিতি তিক্ত হয়ে ওঠে। গ্যালারির দর্শকরা উত্তেজিত হয়ে বোতল-স্যান্ডেল ছুঁড়তে থাকলে খেলার অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রায় ২০ মিনিট পর খেলা আবার শুরু হলে ব্রাহিম দিয়াজ পেনাল্টি নিতে আসেন, কিন্তু মনোযোগ বিভ্রান্তিতে দুর্বল শট নেন এবং গোলরক্ষক এদুয়ার্দো মেন্দি সহজে তা লুফে নেন।
পেনাল্টি মিসের মানসিকতা দ্রুত পরিবর্তন করে সেনেগাল দলকে। তারা অতিরিক্ত সময়ে তাদের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করে। চতুর্থ মিনিটে মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গানা গুয়েই এক দারুণ পাসের জাদুকরী ফিনিশিং করে দলকে এগিয়ে দেন, যা ম্যাচের একমাত্র গোল। এই গোলটি ছিল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী, এবং এভাবেই গ্যালারির লাখো দর্শক শান্ত হয়। আগে নির্ধারিত সময়ে ইসমাইল সারর এর গোল বাঁধা পড়ে ফাউলের কারণে বাতিল হয়। মরক্কো দল সুযোগ পেলেও, নায়েফ আগুয়ার্দের মাথার হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে এবং কোনো কাজের কাজ হয় না।
ম্যাচ শেষে জয়ী সেনেগাল দলের তারকা পাপে গুয়েই বলেন, তারা জয়ের জন্য সব কিছু উজাড় করে দিয়েছেন এবং এটি তাদের প্রাপ্য ছিল। অন্যদিকে মরক্কোর কোচ প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানালেও, ম্যাচের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার জন্য হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই ম্যাচে আফ্রিকার ফুটবলের যে ভাবমূর্তি ফুটে উঠেছে, তা খুবই দুঃখজনক। এই জয়ের মাধ্যমে ২০২২ সালের পর আবারও আফ্রিকার শীর্ষত্ব পুনরুদ্ধার করল সেনেগাল, যা গত তিন বছরে তাদের তৃতীয় শিরোপা। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে ৫০ বছর ধরে একটিও শিরোপা না জেতা মরক্কো এই সুযোগটি হারিয়ে ফেললেন।






