তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জোর দিয়ে বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ ও যোদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণ ও একটি বৈষম্যহীন, প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ার জন্য আগামী গণভোটে দেশের মানুষকে যেন অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান জানানো হয়। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজবাড়ী ইয়াসিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক উদ্বুদ্ধকরণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন। এই সভায় বিশেষ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের ধারাকে অব্যাহত রাখা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে এই গণভোট কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখবে। সৈয়দা রিজওয়ানা আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও সার্বজনীন ঐক্যের ভিত্তিতে গৃহীত ‘জুলাই সনদ’ ভবিষ্যৎ সুশাসন ও জবাবদিহিতার মূল ভিত্তি হয়ে উঠবে। তিনি দেখান, সরকার গঠনের জন্য গঠিত ১১টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে ৬টি সরাসরি নির্বাচন সংক্রান্ত এবং এই সংস্কারগুলো কার্যকর করার জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য এখনই সময়, যদি আমরা চাই বৈষম্যহীন সমাজ, গণতান্ত্রিক চর্চা ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘দেশের স্বপ্নের বাস্তবায়ন ও পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়তে হলে, অবশ্যই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেই কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, এই ভোটে এগিয়ে আসার মাধ্যমে সংসদের সংবিধানকে অযৌক্তিক পরিবর্তন থেকে রক্ষা করা, ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা, নিম্ন ও উচ্চ কক্ষের সমন্বয়ে সংসদ গঠন, একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচন না হওয়ার সিদ্ধান্ত, ক্ষমা চাওয়ার জন্য বাদীর মতামত না নেয়া, নারীর ক্ষমতায়ন সবকিছুই সাধারণ জনগণের ম্যান্ডেট ও নিশ্চিতির ওপর নির্ভর করে। এই মতামত গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য। সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়াই মূল লক্ষ্য। এ জন্য জনগণের প্রত্যাশা, সংবিধানে ইচ্ছে মতো পরিবর্তন না করা, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, সংসদে দুই কক্ষের সমন্বয়, দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী চাওয়া, বিচারব্যবস্থায় সংশোধনী, নারী ক্ষমতায়ন – সব ক্ষেত্রেই ‘হ্যাঁ’ রায় জরুরি। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, যিনি প্রশাসনে দলীয়তা কমিয়ে জনকল্যাণমূলক নীতির পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চেয়েছেন। তিনি বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রচারণামূলক কর্মসূচি যেমন ‘ভোটের গাড়ি’, ‘ভোটের রিকশা’, উঠান বৈঠক ও তথ্যচিত্রের মাধ্যমে ভোটারদের সচেতন করছে। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে সেই অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ এবং জুলাই যোদ্ধা আবদুল্লাহ আল মামুনও বক্তব্য রাখেন। এর আগে, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে একটি রঙিন র্যালির উদ্বোধন করেন, যেটি গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আয়োজনিত ছিল। এই প্রক্রিয়ায় সরকারি বিশেষ উদ্যোগ ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।






