আসন্ন গণভোটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)। তিনি বলছেন, প্রস্তাবিত রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোটের উদ্যোগ সংবিধানবিরোধী এবং অপ্রয়োজনীয়। এই নতুন সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশের অস্থিতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেলের ব্যানকুয়েট হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে, একই অনুষ্ঠানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী উনিশটি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন। জিএম কাদের জানান, তালিকায় ছয়জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। আরও দুইজন প্রার্থীর নাম ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও ২-৩ জনের নাম তালিকায় যোগ হতে পারে। সব মিলিয়ে, জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে মোট ১৯৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনী পরিবেশের ব্যাপারে তিনি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তাদের নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এসব কারণে তারা নির্বাচনী পরিবেশে সন্তুষ্ট না এবং তাদের পক্ষে চলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কার দেখে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, এর মাধ্যমে মূলত প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচার রোধের নামে যে সংস্কার আনা হয়েছে, আদতে সেটা প্রধানমন্ত্রীর হাত-পা বাঁধার মতো। এর ফলে দেশ পরিচালনায় অক্ষম হয়ে পড়বেন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি যুক্তি দেখান, কার্যকরভাবে দেশ চালাতে হলে নির্বাহী প্রধানের যথাযথ ক্ষমতা থাকা জরুরি। অন্যথায়, তিনি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে, জিএম কাদের দেশবাসীকে আহ্বান জানান, আসন্ন গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার, কারণ এটি দেশের স্বার্থবিরোধী।






