কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে অন্তত ২,২০০ রোহিঙ্গা দ্রুত তাদের আশ্রয় হারিয়ে ফেলেছেন। এই অগ্নিকাণ্ডে বিস্তীর্ণ পরিমাণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়, শেল্টার, ও লার্নিং সেন্টার পুড়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ৩টার দিকে, পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এ সংক্রান্ত তথ্য জানিয়েছেন এপিবিএন-৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ।
প্রাথমিক তথ্যে জানানো হয়, ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকের রান্নাঘরে পানি গরম করতে দিয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎই সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, সম্ভবত পাত্রের চুলার ওপর থাকা জিনিস শুকিয়ে যাবার কারণে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশেপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত ডি-১, ২, ও ৩ নম্বর ব্লকসহ বেশ কিছু এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়ে যায়। ফলে, ৪৮১টি শেল্টার, ১০টি লার্নিং সেন্টার, একটি মকতব আর দুটি মসজিদ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, স্থানীয় প্রশাসন, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR, ও বিভিন্ন এনজিও ত্রাণকারী সংস্থার সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়, জরুরি খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা দ্রুত শুরু করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে ঘর হারানো রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী ছাউনিসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও খাদ্য নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ডি-৪ ব্লকের মাঝি মোহাম্মদ আলী বললেন, ‘রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে উঠে দেখি চারদিকে আগুন। সুরক্ষিতভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছি। আমার ব্লকের সব ঘর পুড়ে গেছে।’
অন্য একজন রোহিঙ্গা, আহমেদ উল্লাহ, বলেন, ‘আমার পরিবারের সাতজন সদস্য। শীতের কষ্টের সাথে এখন ঘর হারানোর দুঃখ যোগ হয়েছে। এখন আমি বুঝতে পারছিনা কোথায় যাব, কোথায় থাকব।’
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্নিনির্বাপণ কাজ চালায়।
এদিকে, এপিবিএন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেইসাথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনের ঘটনা নতুন নয়। অস্থায়ী পাত্র, ঘনবসতি এবং সীমিত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। এর আগে, ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে বড় ধরনের আগুনে একটি হাসপাতাল পুড়ে যায়। এর আগের দিন রাতে কুতুপালং ক্যাম্পেও আগুনে অন্তত ১০টি ঘর পুড়ে যায়।






