চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দেন র্যাব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান। তিনি বলেন, এই জঙ্গলের অবৈধ দখলদারিত্ব ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের অপরাধের মাধ্যমে তারা অশান্তি সৃষ্টি করছে। এই অবৈধ কার্যকলাপের অজুহাতে নিজের নাম হালকা করে রাখতে চাই না, তাই তারা খুব শিগগিরই এসব দখলদার ও সন্ত্রাসী দমন করে প্রতিরোধ করবে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে পতেঙ্গায় র্যাবের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই কথা বলেন। এর আগে, গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের একটি গোপন অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে র্যাবের নায়েক সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (৪৮) ঘটনাস্থলে নিহত হন, যার বাড়ি কুমিল্লায়। হামলায় আরো তিনজন র্যাব সদস্য আহত হন। আহতরা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। র্যাবের ভাষ্য, অস্ত্রধারী দুষ্কৃতীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে র্যাবের একটি টিম অভিযান চালায়। এ সময় হামলার জন্য প্রস্তুত থাকা দুষ্কৃতীরা মাইকের মাধ্যমে ঘোষণা দিচ্ছেন, অপ্রত্যাশিত হামলার ঘটনায় র্যাবের সদস্যরাও হতাহত হতে পারেন। র্যাব মহাপরিচালক জানান, এই সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরে একের পর এক আড্ডা এবং ডেন (আখড়ার) মতো অবস্থান করে নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তিনি আশ্বাস দেন, দ্রুত এইসব অবৈধ দখলদার ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হবে। নিহত মোতালেবের পরিবারের সদস্যরা র্যাব মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করে শোক প্রকাশ করেন। জানা যায়, সীতাকুণ্ডের এই পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ৩,১০০ একর সরকারি খাস জমি রয়েছে। এই জমিগুলো দখল করে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটার মাধ্যমে প্লট তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। নিম্নআয়ের অনেক মানুষ—including রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও—সেখানে বসবাস করছে এবং দোকানপাট গড়ে তুলছে। জেলা প্রশাসন বেশ কয়েকবার এই দখল উচ্ছেদের চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। ২০২২ সালে সরকারি উদ্যোগে খাস জমি উদ্ধারে কাজ শুরু হলেও ২০২৪ সালের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই এলাকাটি আবারও সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরের প্রথম দিনে এক সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ী গোলাগুলির ঘটনায় একজন সন্ত্রাসী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। র্যাবের মহাপরিচালক বলেন, বুঝতে হবে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন সবাই একযোগে কাজ করে এই সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য নির্মূল করতে। তিনি জানান, এই অভিযানে সমস্ত বাহিনী—সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন এবং জেলা পুলিশ—সামিল হয়ে কাজ করবে। তিনি বলেন, যত সময় প্রয়োজন, তত সময়ই এই অবৈধ দখলদার ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নির্মূলের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এই অভিযানে কয়জন সদস্য ছিল এবং কোন ধরনের ভুল হয়েছে কি না, এই বিষয়ে তদন্ত চলছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী কেউ নেই,’ এবং সন্ত্রাসীদের এই অভয়ারণ্য ভবিষ্যতেও নির্মূল করা হবে বলে আশ্বাস দেন। শেষ দিকে, নিহত মোতালেবের পরিবারের সদস্যরা র্যাব মহাপরিচালকের কাছে তাঁদের শোক প্রকাশ করে, এবং তারা হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি করেন।






