মধ্যপ্রাচ্যের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি দ্রুততর ও আধুনিক রণতরী পাঠানোর ঘোষণার পর ওই অঞ্চলে উত্তেজনা নতুন রোখে ঠেকছে। ইরান একাএকভাবে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো ধরনের আগ্রাসনের মুখে তাদের শক্তিশালী সামরিক শক্তি দিয়ে পাল্টা জবাব দেবে। এই পরিস্থিতি যাতে ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ না নেয়, সেই জন্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ঘোষণা করে, একটি বিশেষ বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দিয়েছে। তেহরান বলে দিয়েছে, তারা যদি কোনো অপ্রকাশ্য আক্রমণ করে, তবে সেই ধীর ও শক্তিশালী পাল্টা আঘাতের জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেছেন, এরূপ পরিস্থিতি কোনো ফাঁকা বুলি নয়, বরং এক মারাত্মক বাস্তবতা। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লে তা খুবই ভয়াবহ হবে এবং এটি হয়তো ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের দেওয়া সময়সীমার চেয়েও অপেক্ষাকৃত দীর্ঘস্থায়ী হবে। আরাগচি মনে করছেন, এই সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্বজনীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।
ইরানের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি। ট্রাম্প বলেছিলেন, যদি ইরান এ নিয়ে তাদের জীবনহানির চেষ্টা করে, তবে তাদের শাস্তি এমন ভয়ংকর হবে যেন তারা পৃথিবী থেকে ‘মুছে ফেলা’ হয়। এই হুমকির জবাবে ইরানের সামরিকবাহিনী বলেছে, তারা যদি কোনো আঘাতের ইঙ্গিত পায়, তবে আক্রমণকারীর হাত কেটে নেয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকায় মার্কিনসহ অন্যান্য দেশের জন্য নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না।
চাপের এই পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো গভীর উদ্বেগে আছে। তারা ট্রাম্পের সামরিক হুমকি বন্ধ করতে কূটনৈতিক চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি, মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ নামের সামরিক যুদ্ধশিপটি ইতিমধ্যে মালাক্কা প্রণালী পার হয়ে ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করেছে। এটি এখন মধ্যপ্রাচ্য চতুর্দিকে অবস্থান নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে থেকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে জলসীমায় পৌঁছে যাবে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর গন্তব্য স্পষ্ট করেনি, ধারণা করা হচ্ছে এই পদক্ষেপ ইরানের জন্য বড় ধরনের সংকেত। এর আগে, সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসনের আশঙ্কায় ইরান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল, যা মূলত যুদ্ধের প্রস্তুতির একটি অংশ বলে ধারণা করা হয়।
অন্তর্বর্তীভাবে ইরানকেও অভ্যন্তরীন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটিতে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন চলমান। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, এই আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ৪৫০০ ছাড়িয়েছে এবং ২৬ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইরানী সরকার এ সংখ্যা কমিয়ে ৫ হাজার বলে স্বীকার করছে। বাইরের সামরিক হুমকি ও অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার এই দ্বৈরথে দুই পক্ষই খুবই সংবেদনশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি। এটি যে কোনো মুহূর্তে বড় আঞ্চলিক সংঘর্ষের সূচনা করতে পারে, সে ব্যাপারে সবাই সতর্ক।
সূত্র: আল জাজিরা।






