ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপের হুমকি দেওয়া শুল্কের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেছেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ইউরোপ কখনোই ভয়ভীতি বা দাদাগিরি, অর্থাৎ ‘গুণ্ডামি’র কাছে মাথা নত করবে না। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, যদি গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তর না করা হয়, তাহলে ইউরোপের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই পুরো অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে মাক্রোঁ বলেন, ইউরোপের সার্বভৌমত্ব ও সম্মান রক্ষায় তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বর্তমানে যখন অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারা সতর্ক ভাষায় কথা বলছেন, তখন মাক্রোঁ কঠোর ভাষায় ওয়াশিংটনের এই উসকানি ও চাপের নিন্দা করেন।
মাক্রোঁ তার ভাষণে বলেন, ইউরোপ কখনোই শক্তির জোরে চাপিয়ে দেওয়া নিয়ম মানবে না। তিনি বলেন, এমন এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপ ধীরে ধীরে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়বে। বিশ্ব রাজনীতি যেখানে নীতিহীনতার দিকে এগোচ্ছে, সেখানে ইউরোপ তাদের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও আইনের শাসনের প্রশ্নে কোনও আপস করবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর মতে, বর্বরতা থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আইনের শাসন, আর গুণ্ডামির বদলে সম্মানই ইউরোপের মূল আদর্শ। শারীরিক অসুস্থতার কারণে, বিশেষত চোখের রক্তনালী ফেটে যাওয়ায়, বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এভিয়েটর সানগ্লাস পরে ছিলেন।
এই পরিস্থিতির সূত্রপাত হয় when ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর না করলে ইউরোপের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে ফরাসি ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর ওয়াইন এবং শ্যাম্পেইনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি। এই পদক্ষেপকে ওয়েস্টের প্রভাবশালী দেশগুলো সরাসরি ‘ব্ল্যাকমেইল’ বলে অভিহিত করে।
মাক্রোঁ দাভোসে বলেন, এই বলৎকার শুলেকলাপ ও সার্বভৌমত্বের হস্তক্ষেপ ওয়াশিংটনের জন্য অগ্রহণযোগ্য এবং অকার্যকর। এর আগে ট্রাম্প একটি ব্যক্তিগত বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন, যেখানে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার পরিকল্পনা ও জি-৭ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব ছিল। আর এই দুই নেতার ঐতিহাসিক মুখোমুখি সাক্ষাতের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। মাক্রোঁ জানিয়েছেন, তিনি বুধবারের আগেই দাভোস ত্যাগ করবেন, যেখানে ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। তবে, ফাঁস হওয়া বার্তায় দেখা যায় যে, তিনি গত বা বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে প্যারিস সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান, তবে ট্রাম্প তা গ্রহণ করবেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।






