উড়োজাহাজ সংকট এবং বহর ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ মার্চ ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিমান কর্তৃপক্ষ এ ঘোষণা দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনায় ১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে ১ মার্চ থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হবে।
বিমান কর্মকর্তারা বলেছেন, ঢাকা ও সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার রুটটি বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। বিমানের সীমিত বড় উড়োজাহাজ দিয়ে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং হজ রুটের ফ্লাইট পরিচালিত হয়। দীর্ঘপথের জন্য একটি উড়োজাজাহাজ প্রায় পুরো সময় ব্যস্ত থাকায় অন্য গুরুত্বপূর্ণ রুটে সময়মতো শিডিউল মেইনটেইন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে আসন্ন হজ মৌসুমে ব্যাপক সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করার জন্য এই পরিবর্তন অপরিহার্য বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
অতিরিক্তভাবে, মধ্যপ্রাচ্য রুটগুলোতে প্রবাসী শ্রমিক ও ওমরাহ যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি, বিমানের বহরে থাকা বিভিন্ন উড়োজাহাজের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ইঞ্জিন মেরামতের জন্য কিছু বিমান মাঝেমধ্যে উড্ডয়ন থেকে বিরত থাকছে। এর ফলে ফ্লাইট চালানোর সম্ভাবনাও প্রভাবিত হচ্ছে। তদ্ব্যতীত, বিশ্বব্যাপী ক্রু সংকটের কারণে দীর্ঘ পথের পরিবর্তে স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইট পরিচালনা করাকেও বেশি কার্যকর মনে করছে বিমান কর্তৃপক্ষ। এসব কারণে, ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে, এই অস্থায়ী পরিস্থিতির জন্য যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ম্যানচেস্টার ফ্লাইট স্থগিতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা লন্ডন রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি করে সেটি সপ্তাহে পাঁচটি করে চালু করেছে। এর মধ্যে চারটি ফ্লাইট সিলেট হয়ে যাবে, আর একটি সরাসরি ঢাকা থেকে লন্ডন যাত্রা করবে। ম্যানচেস্টার রুটের যাত্রীরা চাইলে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই টিকিট ফেরত নিতে পারবেন অথবা অন্য সুবিধাজনক তারিখে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন।
বিমান কর্তৃপক্ষ এই সাময়িক অসুবিধার জন্য ক্ষমা চেয়ে জানায়, বর্তমানে নতুন উড়োজাহাজের ক্রয় এবং ক্রু নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই উদ্যোগগুলো সম্পন্ন হলে, ভবিষ্যতে আবারও ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালু করার সম্ভাবনাও রয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করে, এসব উদ্যোগ সম্পন্ন হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং পুনরায় এই গুরুত্বপূর্ণ রুট চালু করা সম্ভব হবে।






