আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) প্রতিষ্ঠার এই পঁচাত্তর বছরের পথচলার এই মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক বিশেষ সেমিনSlider উপস্থাপন করেছে। গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে আয়োজিত এই সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বৃদ্ধি, অর্জন, ভবিষ্যতের চাহিদা এবং আইকাও-বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি’। বাংলাদেশের আকাশপথকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রাখতে বেবিচকের নিরলস প্রচেষ্টা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলির বিস্তারিত আলোচনা এতে স্থান পেয়েছে।
সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের মেম্বার (অপারেশনস এবং পরিকল্পনা) এয়ার কমোডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান। তিনি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন, বেবিচকের ৫৩ বছরের যাত্রার মূল ভিত্তি হচ্ছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পকে তিনি দেশের এভিয়েশন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরেন। এই টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা বাংলাদেশকে আঞ্চলিক একটি এভিয়েশন হাবে পরিণত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি দেবে। তিনি আরও জানান, শাহ আমানত এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরের রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও টার্মিনাল উন্নয়নের কাজও অগ্রগামী।
তিনি ‘নিরাপদ আকাশের ঐতিহ্য’ কে বেবিচকের অবিচ্ছেদ্য মূলমনোভাব হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিবেশবান্ধব, গ্রীন এভিয়েশন এবং দুর্যোগ সহনশীল বিমানবন্দর নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেন।
মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সেমিননে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেখানে আগামী প্রজন্মের এভিয়েশন পেশাজীবী তৈরি করতে ‘ন্যাক্সট জেনারেশন অব এভিয়েশন পার্সোনেলস’ (এনজিএপি) উদ্যোগের আলোচনা হয়। সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, শক্তিশালী ভৌত অবকাঠামো ও আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ জনবলই হলো এই খাতের মূল চালিকাশক্তি। তিনি আরও জানান, কার্যকর প্রশিক্ষণের জন্য ট্রেনিং নেড অ্যাসেসমেন্ট (টিএনএ) অপরিহার্য, যা ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সাজানোর ভিত্তি তৈরি করে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন একাডেমির আইকাও ট্রেইনিয়ার প্লাস গোল্ড মেম্বারশিপ অর্জনের স্বীকৃতি দেশের প্রশিক্ষণ সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করে।
বেসরকারি এয়ারলাইন্সের বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী ড. ইমরান আসিফ। তিনি বলেন, দেশের এভিয়েশন শিল্প বর্তমানে পরিবর্তনশীল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যাত্রীর চাহিদা বাড়ছে, প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে এবং মান বজায় রাখতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আরও বাড়ছে। অন্যদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চিফ অব ট্রেনিং ও ফ্লাইট অপারেশন ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুল হক এনজিএপি উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, পাইলট, কেবিন ক্রু ও ফ্লাইট অপারেশন সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে সরকারের, নিয়ন্ত্রক সংস্থার এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
উপস্থিত বক্তারা সবাই একমত হন যে, দেশের আত্মবিশ্বাসী ও নিরাপদ এভিয়েশন শিল্প গড়ে তোলার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি বিশ্বমানের আঞ্চলিক এভিয়েশন কেন্দ্রে পরিণত করতে হলে আরও অগ্রসর হতে হবে। অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতের জন্য এক দুর্দান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করে, একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও দক্ষ এভিয়েশন খাত গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।






