সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং খাতের সংগঠন ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে দুটিতে আনতে চাইছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ব্যাংকগুলোকে একীভূত বা মার্জ করে প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যয়ের পরিমাণ কমানো। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশে দুই থেকে তেরোটি ব্যাংক থাকলেই যথেষ্ট, কারণ বর্তমানে ৬৪টি ব্যাংক থাকার কারণে বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যা এবং অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যাংকের সংখ্যা কমালে পরিচালন ব্যয় কমবে এবং লাভজনকতা বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য সুবিধাজনক হবে।
বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বক্তৃতায় ড. আহসান এইচ মনসুর এ সব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ। বক্তৃতায় তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গভর্নেন্স বা শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা। সরকারের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের নির্দেশে অসংখ্য অনিয়মের মাধ্যমে এই খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ, প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা, পাচার হয়ে গেছে। এমনকি অনিয়ম ও অবিচারমূলক ঋণ সম্প্রসারণের ফলেও ব্যাংকের গভার্নেন্স বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ড. মনসুর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ব্যাংকগুলোতে নেমে আসা এই দুর্বলতার জন্য অবহেলা করে এসেছে। এই কারণে ব্যাংকগুলোতে মালিকানা ব্যক্তিবর্গের হাতে চলে গেছে, ফলে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের অভাব দেখা দিয়েছে এবং দেশ থেকে অর্থ চলে গেছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। এই খাতের উন্নয়নই অন্যান্য অর্থনৈতিক খাতের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। বর্তমানে এই খাতের অবস্থা খুবই নাজুক। তাই বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এর উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকের দাখিলকৃত আয়ের পরিমাণ বাংলাদেশের সমস্ত ব্যাংকের সম্মিলিত আয়ের সমান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, বর্তমান গভর্নর বিভিন্ন কলাকৌশলের মাধ্যমে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাংকিং খাতকে পুনরুদ্ধার করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ব্যাংক খাতের এই সূচক ইতিবাচকভাবে পরিবর্তিত হবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ ও সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।






