আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পরিস্থিতিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পন্ন করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুজনের পক্ষ থেকে এই বার্তা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও শুদ্ধতা রাখতে প্রধান দায়িত্ব মূলত নির্বাচন কমিশনের। তবে স্বাভাবিক ও সফল নির্বাচনের জন্য সরকার, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটাররা সবাইকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তিনি emphasise করে বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু নির্বাচন কমিশনের একার দায়িত্ব নয়, বরং এর জন্য দেশের প্রতিটি অংশীজনের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। সবাইকে একসাথে দায়িত্বশীল আচরণ করে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সুজনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী পরিবেশকে বলিষ্ঠ ও স্বচ্ছ করার জন্য নির্বাচনকালীন সরকারের প্রতি শতভাগ নিরপেক্ষ থাকার অনুরোধ জানানো হয়। একইসাথে কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, কালোটাকা, পেশিশক্তি ও অনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে কঠোর। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে ভোট স্থগিত বা ফলাফল বাতিলের ক্ষমতা প্রয়োগের জন্যও জোর দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমকে অনুসন্ধানী ও বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মানবতাবিরোধী, নারী বিদ্বেষী, মাদক ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য স্পর্শকাতর ব্যক্তিদের ভোটদানে বিরত থাকার জন্যও বলা হয়।
নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলিপ কুমার সরকার বলেন, কিছু অপ্রাপ্তি ও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া এবং প্রার্থী মনোনয়নের বিধান বাস্তবায়িত না হওয়ার বিষয়গুলো নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা যদি সংস্কার হয় তবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। সবশেষে, সবাইকে নিজেদের দায়িত্ব সততার সাথে পালন করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিশ্বাসযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভোটারের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি যেন না হয়। সকল অংশীজন তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।






