বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জাপানের কাশি ওয়াজাকী-কারিওয়া কেন্দ্রটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পুনরায় চালু হলেও মাত্র এক দিনের মধ্যে আবারও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছে। রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার উত্তরে নিগাতা বন্দরশহরে অবস্থিত এই বিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৪২০ হেক্টর জমির ওপর নির্মিত। এতে মোট সাতটি পরমাণু চুল্লি রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ৮ দশমিক ২ মেগাওয়াট। এই কেন্দ্রটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জাপানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি বা টেপকো নিয়োজিত। ২০১১ সালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া ফুকোশিমা ট্র্যাজেডির পর এই কেন্দ্রের ৫৪টি পরমাণু চুল্লি ধ্বংস হয় বা বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে এই কেন্দ্রের চুল্লিগুলোরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিপর্যয়ের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর বিশেষজ্ঞরা ৩৩টি চুল্লিকে মেরামতযোগ্য বলে ঘোষণা করেছিলেন। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, জাপান সরকারের সিদ্ধান্তে ওই সময় কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। মেরামতের কাজ শেষ করে টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি গত ২১ জানুয়ারি কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করে। তবে সেই পুনরুদ্ধারের আনন্দ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র এক দিন পর, ২২ জানুয়ারি, কেন্দ্রীয় ৬ নম্বর চুল্লিতে গুরুতর যান্ত্রিক সমস্যার উপস্থিতি দেখা দেয়। টেপকো কর্তৃপক্ষ তখন উৎপাদন বন্ধ করে দেন। কোম্পানি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, যান্ত্রিক গোলযোগের পাশাপাশি কেন্দ্রের অ্যালার্ম সিস্টেমেও ত্রুটি দেখা গেছে, যা বড় ধরনের বিপদ তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারত। পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে টেপকো জানিয়েছে, তারা সমস্যা সমাধানে কাজ করছে এবং তদন্ত চালাচ্ছে। তবে, কী কারণে এই সমস্যাগুলি দেখা দিল, তা এখনো জানা যায়নি। বর্তমান সময়ে কারিগরি এই সংকটের সমাধানে কাজ চলছে, কিন্তু দৈনন্দিন তথ্য অনুযায়ী, কত দ্রুত কেন্দ্রটি আবার চালু হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করতে পারছেন না কর্মকর্তারা।






