১৯৪৫ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার নেতিবাচক প্রভাব আজও অনুভূত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ফলে ক্যান্সারসহ নানা জটिल রোগে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৪০ লাখের অধিক। এছাড়া আরও অনেকে ঝুঁকির মধ্যে আছেন, নানা ধরনের অসুস্থতায় জীবন-মরণ সংগ্রামের মধ্যে পড়েছেন। এই তথ্য উঠে এসেছে একটি নতুন রিপোর্টে, যা প্রকাশ করেছে নরওয়েজিয়ান পিপলস এইড নামের মানবিক সংস্থা। পাশাপাশি, পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ঝুঁকি দিনে দিনে আরও বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
১৯৪৫ সালের ৯ আগস্টের ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে, একটির বেশি পারমাণবিক বোমার প্রয়োজনে তার ভয়াবহতা দুবারেরও বেশি। এই দিনটি বিশ্বের জন্য এক অন্ধকার অধ্যায়, যখন জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক হামলায় লাখো মানুষ মারা যান। এর কয়েক দশক পার হয়ে গেলেও, পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা কমেনি, বরং সময়ের সাথে তার ভীতি ও ভয়াবহতা আরও বেড়েছে।
১৯৪৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় আড়াই হাজারের বেশি পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো হয়েছে বিভিন্ন দেশের দ্বারা। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, ভারত, ইসরায়েল এবং উত্তর কোরিয়া। এই পরীক্ষাগুলোর ফলে বহু মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটেছে; ক্যান্সার, হৃদরোগ, ভ্রুণের অকাল মৃত্যু, জেনেটিক পরিবর্তন থেকে শুরু করে নানা ধরনের চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি এখনো অব্যাহত।
বিগত পারমাণবিক পরীক্ষার সময় যারা জীবিত ছিলেন, তাদের হাড়ে অদৃশ্যভাবে বহন করছেন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। এই তথ্যটি প্রকাশ পেয়েছে নরওয়েজিয়ান পিপলস এইড-এর এক ৩০৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে। এ ছাড়াও, বিভিন্ন দেশের গোপনীয়তা ও তথ্য লুকানোর কারণেই তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও গবেষণার পরিস্থিতি এত জটিল। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কোনো যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময়টায় যখন বিশ্বে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা ও ঝুঁকি বাড়ছে, তখন উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। রাশিয়া ও চীন বিভিন্ন সময় নিউক্লিয়ার পরীক্ষার ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রও পুনরায় এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে। তবে, মস্কো-বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্বের পারমাণবিক শত্রু রাষ্ট্রগুলো কখনোই নিজেদের পরীক্ষার জন্য ক্ষমা চায়নি। এই পরিস্থিতিতে, বিশ্ববাসী কি এই অভিশাপের অন্ধকার থেকে মুক্তি পাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, চীন-তাইওয়ান সংকট এবং ইরানের পারমাণবিক সংঘাত যেন এই অশান্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
অতি সম্প্রতি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তাদের কাছে মজুদ থাকা পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে বিশ্বকে একশো পঞ্চাশ দফা উড়িয়ে দিতে সক্ষম। অন্যদিকে, রাশিয়া দাবি করছে তাদের কাছে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা, যা হিরোশিমায় ফেলা লিটল বয়-এর প্রায় ৩ হাজার গুণ শক্তিশালী। বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে মোট ৯টি দেশের কাছে মোট ১২হাজারের বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, যার মধ্যে মস্কোর শক্তি ওয়াশিংটনের চেয়ে এগিয়ে। এই ভয়াবহ অস্ত্রের ব্যবহারে বিশ্বের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে বিশ্লেষকরা।






