হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে শব্দদূষণমুক্ত বা ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), বিআরটিএ এবং ডিএনসিসির যৌথ উদ্যোগে একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়।
এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান অকারণে হর্ন বাজানোর প্রবণতাকে একে একে বদঅভ্যাস হিসেবে অভিহিত করে, এর দমন করার তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানস্থলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, “অকারণে হর্ন বাজানো আমাদের এক বদঅভ্যাস। এই বদঅভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।’’ আরো তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সমস্যা সমাধানে শুধু প্রশাসন নয়, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণও অপরিহার্য। তাঁর মতে, “শব্দদূষণ কমানোর দায়িত্ব আমাদের সবার, শুধু সরকারের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না।”
অভিযান চলাকালে হর্ন বাজানোর জন্য দায়ী সাতজন চালককে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। এ সময় উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা হর্নের উপর জোর দিচ্ছি। কোনো অজুহাতেই হর্ন বাজানো যাবে না।” তিনি আরও বলেন, “যদি অন্য আইন ভঙ্গ হয়, যেমন ট্রাফিক অডিটিং বা জরিমানা, সেগুলোর মতো হর্নের ক্ষেত্রেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।” শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের পরিবেশ আইন ২০২৫-এর যথাযথ বাস্তবায়নে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি জানান, ঢাকায় উচ্চশব্দের কারণে প্রায় ৬৫ শতাংশ চালক শ্রবণশক্তি সংকটে ভুগছেন এবং শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপরও এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, “আমাদের সকলকেই এই ব্যাপারে দায়িত্ব নেওয়া উচিৎ এবং সচেতন থাকতে হবে।”
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, যিনি শব্দদূষণ বিধিমালা বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিমানবন্দর এলাকায় হর্নমুক্ত রাখতে এই উদ্যোগ পুরো শহরকে একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থাপন করবে। উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “সবার সচেতনতার মাধ্যমে টেকসই হর্নমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। উদ্দেশ্য হলো বিমানবন্দরের এই হর্নমুক্ত পরিবেশকে দেশের অন্যান্য এলাকার জন্যও একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা।”
এই যৌথ অভিযানে বিআরটিএ, সিভিল এভিয়েশন ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যারা শব্দদূষণমুক্ত ঢাকাকে গড়ার লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।






