আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের। তিনি দাবি করেছেন, নাসীরুদ্দীন নিজ স্বার্থের জন্য ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির নাম ও আবেগকে ব্যবহার করছেন। শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আবদুল কাদের এই অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, ৫ আগস্টের পর জাতি যে ধরনের শান্তিপূর্ণ এবং গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রত্যাশা করেছিল, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বর্তমান কর্মকাণ্ড তার সঙ্গেই সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি অযথা বিবাদ সৃষ্টি করার চেষ্টাও করছেন বলে উল্লেখ করেন।
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এই নেতা তার পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আন্দোলনে ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। উল্লেখ করেন, আন্দোলনে বড় ভূমিকা থাকার দাবিতে তিনি হম্বি তুদি করে থাকলেও মাঠে দেখা যায়নি এমন মন্তব্য। বিশেষ করে তিনি কিছু ঘটনা উল্লেখ করেন যেখানে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর বাংলামোটরের বিয়াম ভবনে এক সভায় উপস্থিত ছিলেন অ্যাসিফ মাহমুদ, নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলম। সেখানে আন্দোলনের জুনিয়র সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, হঠাৎ করে এসে তিনি এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কেমনভাবে পেলেন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
অভিযোগের অংশ হিসেবে আবদুল কাদের বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অতীত ইতিহাস অন্ধকারময়। ছাত্রশিবির, ছাত্র ফেডারেশন ও এবি পার্টির সঙ্গে তার যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি নতুন উদ্যোগে বিভাজন সৃষ্টির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। লিয়াজোঁ কমিটিতে তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে আবদুল কাদের জানান, আন্দোলনের সময় নাসীরুদ্দীন একদিন তাকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি ডিআরইউতে সংবাদ সম্মেলনে সহায়তা করেছিলেন। এই অভিজ্ঞতা হিসেবে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।
কাদের আরও বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন শপথ করেছিলেন আর কোনো দল বা উদ্যোগ ভাঙবেন না। কিন্তু বর্তমানে তার কর্মকাণ্ড এই অঙ্গীকারের বিরোধিতা করছে। তিনি তাকে নোংরা, অশোভন আচরণের জন্য সমালোচনাও করেন, বলেন, দেশের মানুষ ও ছাত্রসমাজ এই ধরনের ধৃষ্টতা প্রত্যাশা করে না। নির্বাচনী প্রচারণায় এরকম পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের মধ্যে বিদ্যমান মতভেদকে উন্মোচন করেছে।






