বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, ভবিষ্যতে যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তারা দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবেন এবং দুর্নীতিতে জড়িত কাউকেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। রবিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুঃসাহসী এক জনসভার মাধ্যমে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, যেখানে তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দুটি বিষয়ের প্রতি জোর দিয়েছেন—একটি হলো মানুষের নিরাপত্তা এবং অন্যটি হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
সমাবেশে তিনি অতীতের বিএনপি সরকারের সময়কে স্মরণ করে উল্লেখ করেন, যখন তাঁরা শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন, তখন কেউ অন্যায় করলে তাঁদের কঠোর হাতের শাসনে দমন করা হতো। তিনি আশ্বাস দেন যে, ক্ষমতায় গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলটি অত্যন্ত কঠোর—প্রথমে খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতেও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জনসাধারণের কাছে আস্থার সঙ্গে আবেদন জানান, আগামী নির্বাচনে যাতে তারা ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেয়। তিনি বলেন, ভোটের দিন তারা যেন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ফজর ফজরে নামাজ শেষে সরাসরি ভোট কেন্দ্রে যায়, কারণ বিগত ১৫ বছরে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কিছুটা হরণ করা হয়েছে। তিনি ও সতর্ক করে বলেন, এখনো বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে, তাই হারানো অধিকার পুনরুদ্ধার ও ষড়যন্ত্র রুখতে ধানের শীষের বিজয়ই একমাত্র সমাধান।
তারেক রহমান আরও গুরুত্ব দিয়ে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির সমালোচনা করার পরিবর্তে মানুষের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, অন্যের সমালোচনা করে কারো পেট ভরবে না বা লাভ হবে না। বিএনপি হলো একমাত্র দল, যা ক্ষমতায় এসে সবসময় মানুষের জন্য কাজ করেছে। খেতের উৎপাদন বাড়ানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে তিনি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন, যার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন।
চট্টগ্রামের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আলোচনা করেন। বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য খাল ও নালাগুলোর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে এবং প্রয়োজনে খনন কাজ শুরু হবে। এছাড়া, বিএনপি সরকারের সময়ে চট্টগ্রামে ইপিজেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, এই ব্যাপারেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্বপক্ষে তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিজয়ী হলে আরও নতুন ইপিজেড স্থাপন করা হবে এবং চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্য কর্মসূচির কেন্দ্র করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।






