বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার করা মোটেও ঠিক নয়। তিনি বলেন, আমাদের দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ মতাবলম্বীসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বাস করেন। এই পরিস্থিতিতে যদি রাজনীতিতে ধর্মকে টেনে আনা হয়, তবে তা পক্ষপাতিত্বের সৃষ্টি করতে পারে এবং সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও দাখিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী গণসংযোগে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিএনপির পার্থক্য স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি একটি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল। জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের চেনে ও বিশ্বাস করে। বিগত ১৫ বছর ধরে বিএনপি সরকারশাসিত থাকাকালে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হয়রানি তাদের ওপর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী করা হয়েছে, এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলায় সাড়ে ৭ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলার জন্য দলের নেতাকর্মীদের অনেক কষ্ট এবং অর্থের ব্যয় হয়েছে। সরকার পালানোর সময় এসব মামলাগুলো প্রত্যাহার হলেও তিনি আশ্বাস দেন, আওয়ামী লীগ অতীতে যা করেছে, তেমন প্রতিহিংসামূলক আচরণ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে করবে না।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে তিনি সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। ঘোষণা করেন, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে দেশের মায়েদের জন্য বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে তারা ন্যায্য মূল্যে চাল, ডাল, আটার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন, পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় প্রদান সহজ হবে।
তাদের কৃষকদের জন্যও হাতে সময়ে কৃষি কার্ডের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল, যা দিয়ে কৃষকরা সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সুলভে পাবেন। আজকের গণসংযোগ ও পথসভায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা স্লোগান দিয়ে মহাসচিবের বক্তব্যকে স্বাগত জানান।






